স্পোর্টস ডেস্ক: ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক টেস্ট কেরিয়ারের ইতি টেনেছেন মহম্মদ সামি। ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করেছেন ভারতীয় পেসার। বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিরে দেখা হচ্ছে তাঁর ফেলে আসা একের পর এক স্মরণীয় পারফরম্যান্স। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু উইকেট নেওয়াই নয়, বিদেশের মাটিতে কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতকে ম্যাচে ফেরানোর অসাধারণ ক্ষমতা ছিল সামির। কখনও দল জিতেছে তাঁর হাত ধরে, কখনও আবার দল হারলেও একার লড়াইয়ে নজর কেড়েছেন তিনি।
ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্ট খেলেছেন সামি। ঝুলিতে রয়েছে ২২৯টি উইকেট। গড় ২৭.৭১। এর মধ্যে বিদেশের মাটিতে ৪১টি টেস্ট খেলে নিয়েছেন ১৪৫টি উইকেট। অর্থাৎ তাঁর মোট উইকেটের ৬৩.৩ শতাংশ এসেছে দেশের বাইরে। বিদেশের মাটিতে ভারতের সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই ডানহাতি পেসার। যে কোনও সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল তাঁর।
সামি খেলেছেন, এমন ১৪টি বিদেশের টেস্টে জিতেছে ভারত। সেই ম্যাচগুলিতে ২২.৪৯ গড়ে ৫৫টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, ভারত যে ম্যাচগুলিতে হেরেছে, সেখানে তাঁর উইকেট নেওয়ার গড় বেড়ে হয়েছে ৩৬.৪২। অর্থাৎ জয়ের ম্যাচে অনেক দ্রুত প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের সাজঘরে ফেরাতেন সামি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল সামির অন্যতম প্রিয় প্রতিপক্ষ। সেখানে দুটি টেস্টে ভারত জিতেছিল। দুই ম্যাচে ১২.৯৩ গড়ে ১৪টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪১ রান। এক উইকেটে ১২৪ রান তুলে ফেলেছিল তারা। সেখান থেকে মাত্র ১০ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রং বদলে দেন সামি। শেষ পর্যন্ত ২৮ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতকে ৬৩ রানে জিততে সাহায্য করেন।
২০২১ সালে সেঞ্চুরিয়নেও তাঁর দাপট দেখা গিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯৭ রানে গুটিয়ে দেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনটি উইকেট তুলে নেন। ম্যাচে মোট আট উইকেট নিয়ে ভারতের ১১৩ রানের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও সামির লড়াই ভোলার নয়। ২০১৮-১৯ সফরে পারথ টেস্টে প্রথম ইনিংসে উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ছয় উইকেট তুলে নেন। কিন্তু ভারত সেই ম্যাচে ১৪৬ রানে হেরে যায়। ব্যক্তিগত সাফল্য যে সব সময় দলের জয়ে রূপ নেয় না, তার অন্যতম উদাহরণ এই ম্যাচ।
ইংল্যান্ডের মাটিতে ১২টি টেস্টে ৩৪টি এবং নিউজিল্যান্ডে চারটি টেস্টে ১৫টি উইকেট নিয়েছেন সামি। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় মোট ৩২টি টেস্টে তাঁর উইকেট ১১৫।
পরিসংখ্যানের বাইরেও সামির পরিচয় ছিল তাঁর নিখুঁত সিম, রিভার্স সুইং এবং বিপদের মুহূর্তে বল হাতে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা। দলের প্রয়োজনের সময় বারবার জ্বলে উঠেছেন তিনি। তাই শুধু ২২৯টি উইকেট দিয়ে সামির টেস্ট কেরিয়ারকে বিচার করা যাবে না। বিদেশের মাটিতে তাঁর লড়াই, অবিশ্বাস্য স্পেল এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের স্মরণীয় পেসারদের তালিকায় জায়গা করে দেবে।




