নিউজ ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ পথচলায় ইতি টানলেন মহম্মদ সামি। দেশের জার্সিতে লাল বলের ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না বাংলার এই পেসারকে। শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিয়ো প্রকাশ করে টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন ৩৬ বছরের ভারতীয় তারকা। তবে ক্রিকেটকে এখনই বিদায় জানাচ্ছেন না তিনি। সাদা বলের ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন সামি। ফলে এক দিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে দেখার আশা থাকছে সমর্থকদের।
টেস্ট ক্রিকেটে সামির পরিসংখ্যান যথেষ্ট ঈর্ষণীয়। দেশের হয়ে ৬৪টি টেস্ট খেলে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২২৯টি উইকেট। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। নতুন বলে সুইং করানো থেকে শুরু করে পুরনো বলে বিপজ্জনক রিভার্স সুইং, সবেতেই নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। কিন্তু চোট বারবার তাঁর কেরিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পর থেকে আর ভারতীয় দলের হয়ে খেলেননি তিনি। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরেও থাকতে হয়েছে তাঁকে।
পরবর্তীকালে ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে মাঠে ফিরে নজর কেড়েছিলেন সামি। রঞ্জি ট্রফি এবং ইরানি কাপে বল হাতে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স করেও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাননি। নির্বাচকদের উপেক্ষা নিয়ে ক্রিকেটমহলে কম আলোচনা হয়নি। শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই নিলেন তিনি।
অবসরের বার্তায় সামি লিখেছেন, ভারতের সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেও সেই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলিকে কখনও বিদায় জানাবেন না। দেশের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলার সময় তাঁর একটাই স্বপ্ন ছিল, দেশের জন্য কিছু করা। প্রতিটি উইকেট, লড়াই, চোট এবং প্রত্যাবর্তন তাঁকে নতুন শিক্ষা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সামি। তাঁর প্রতিভায় বিশ্বাস রেখে সুযোগ দেওয়ার জন্য দুই সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শেষ টেস্ট বল মাঠে করে ফেললেও দেশের হয়ে খেলার গর্ব হৃদয়ে চিরকাল থেকে যাবে, আবেগঘন বার্তায় এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
২০২৩ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল সামির শেষ টেস্ট। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর সেই অধ্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাঁড়ি টানলেন তিনি। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে এখনও তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চাইবেন সমর্থকেরা।




