স্পোর্টস ডেস্ক: আইপিএলের নিলামে বিপুল টাকা খরচ করেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। সুযোগও পেয়েছেন হাতে গোনা। ফলে আগামী মরশুমে তাঁকে ধরে রাখা উচিত, নাকি ছেড়ে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসে। কিন্তু এই তরুণ অলরাউন্ডারকে এখনই ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে নন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইরফান পাঠান। বরং আরও একটা মরশুম তাঁকে সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিভা এবং অলরাউন্ড দক্ষতার কথা মাথায় রাখলে এই ক্রিকেটারের উপর আরও একবার ভরসা করা উচিত।
আইপিএল ২০২৭-এর আগে ক্রিকেটার ধরে রাখা এবং দলবদলের শেষ সময়সীমা ১৭ নভেম্বর। তার পর ১৬ ডিসেম্বর বসবে ছোট নিলামের আসর। তার আগেই দল সাজানোর কাজে ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। সম্প্রতি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে চার ক্রিকেটারের দলবদল করে চর্চায় এসেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই। খলিল আহমেদ এবং নাথান এলিসের পরিবর্তে দলে এসেছে লিয়াম লিভিংস্টোন ও জ্যাক এডওয়ার্ডস।
এ বার কোন ক্রিকেটারদের ধরে রাখা হবে, তা নিয়েই জল্পনা। বিশেষ করে ১৪.২০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা প্রশান্ত বীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২০২৬ সালের নিলামে এই একই দামে প্রশান্তের পাশাপাশি উইকেটরক্ষক ব্যাটার কার্তিক শর্মাকেও কিনেছিল চেন্নাই। তবে মরশুমের শেষ দিকে পরপর দু’টি অর্ধশতরান করে নজর কেড়েছেন কার্তিক। তাঁকে ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। অন্য দিকে, ব্যাট এবং বল—দুই বিভাগেই খুব বেশি সুযোগ পাননি প্রশান্ত। তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু ইরফানের ভাবনা আলাদা। ক্রিকেট সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, দাম বেশি হলেও প্রশান্তকে আরও একটি মরশুম দেখতে চান। তাঁর কথায়, প্রশান্তের মধ্যে অলরাউন্ডার হওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে। তাই তাঁকে ধরে রাখাই উচিত। একই সঙ্গে লেগস্পিনার রাহুল চাহারকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইরফান। ৫.২০ কোটি টাকায় তাঁকে কিনেছিল চেন্নাই।
শুধু চেন্নাই নয়, কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল নির্বাচন নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন ইরফান। ২০২৬ সালের নিলামে ক্যামেরন গ্রিনের জন্য ২৫.২০ কোটি এবং মাথিশা পাথিরানার জন্য ১৮ কোটি টাকা খরচ করেছিল কেকেআর। কিন্তু দু’জনকে নিয়েই এখন সংশয়। চোটের কারণে গত মরশুমে পাথিরানা মাত্র আটটি বল করেছিলেন। অন্য দিকে, গ্রিন সব ম্যাচ খেললেও অস্ট্রেলিয়ার ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির কারণে আগামী মরশুমে তাঁর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরফানের মতে, বিরল অলরাউন্ড দক্ষতার জন্য গ্রিনকে ধরে রাখা উচিত। তবে চোটের সমস্যায় জর্জরিত পাথিরানাকে ছেড়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।




