নিউজ ডেস্ক: সকাল হতেই রাজধানীর আকাশে যেন অস্বস্তির চাদর। দূরের দৃশ্য ঝাপসা, বাতাসে ধোঁয়াটে আস্তরণ, শ্বাস নিতে গিয়েও অস্বস্তির আশঙ্কা। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক জরুরী পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছিল। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকা গুলিতে কড়া বিধিনিষেধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার দিল্লির বায়ু দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। সামগ্রিকভাবে শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) পৌঁছেছে ৩৬৫-তে যা 'অতি খারাপ' বা Very Poor পর্যায়ের অন্তর্গত। উদ্বেগের বিষয় দিল্লির ৫৯ টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ২২টিতে AQI-এর মান ৪০০-এর গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ একাধিক এলাকায় বাতাসের মান পৌঁছেছে 'গুরুতর' বা Severe পর্যায়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে GRAP-এর তৃতীয় পর্যায়ে বা GRAP-3 কার্যকর করেছে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট।
বিভিন্ন এলাকার দূষণের পরিসংখ্যানও যথেষ্ট উদ্বেগ জনক। IIT দিল্লিতে AQI ৪০০ থেকে ৪৪২, পাঞ্জাবি বাদে ৪৩৩ থেকে ৪৫৩, বিবেক বিহারে ৪২৫ এবং জাহাঙ্গিপুরীতে ৪৪৭ রেকর্ড হয়েছে। অন্যদিকে, আরকে পুরমে ৪৪৩ এবং আইটিও এলাকায় ৪০৩ থেকে ৪২২ এর মধ্যে ছিল AQI। GRAP-3 কার্যকর হওয়ার ফলে একাধিক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এই পর্যায়ে দিল্লি-এনসিআই এর সমস্ত অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ ও ভাঙ্গার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যে সমস্ত কাজ থেকে ধুলো ও দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে সেগুলির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় বিধি নিষেধ। দিল্লির রাস্তায় BS-lll পেট্রোল এবং BS-IV ডিজেল চালিত চার চাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি, পুরসভা এবং বেসরকারি অফিস গুলিতে কর্মী উপস্থিতি ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার গুলি। বাকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও রাস্তার ধুলো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জল ছেটানো এবং অন্যান্য দূষণ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়া, আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিস্থিতি, যানবাহনের ধোঁয়া একাধিক কারণে দূষণ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় আক্রান্তদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া, খোলা জায়গায় শরীর চর্চা এড়িয়ে যাওয়া, এবং বাইরে গেলে N-95 মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর রাজধানীবাসীর।




