স্পোর্টস ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আকস্মিক অবসরের ঘোষণার পর এবার পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া রাজকীয় বিদায়ী ম্যাচের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দেশের হয়ে ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর ভক্ত ও সমর্থকদের সামনে শেষবারের মতো মাঠে নামার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সিআরসেভেন তাতে অংশ নিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ জাতীয় দলের বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুস -এর সাথে রোনালদোর তীব্র কোন্দল ও সম্পর্কের অবনতি।
৫ নভেম্বর ২০২৬-এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার এই ঘোষণার পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাদের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে সম্মান জানাতে একটি জমকালো সংবর্ধনা এবং বিদায়ী ম্যাচের পরিকল্পনা শুরু করে। কিন্তু রোনালদো ফেডারেশনের সভাপতি পেড্রো প্রোয়েনসাকে জানিয়ে দেন, তিনি বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য আর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরতে আগ্রহী নন।
রোনালদোর এই অনীহা এবং হঠাৎ অবসরের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্তমান পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুসের সাথে তার বড় ধরনের দ্বন্দ্ব। গত সেপ্টেম্বর মাসে উয়েফা নেশনস লিগের একটি ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে রোনালদোকে শুরুর একাদশে না রেখে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়। ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো তাকে কোনো ম্যাচে বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠে নামানো হয়নি। পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তাকে শুরুর একাদশে রাখার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না—কোচের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে রোনালদো অনুমতি ছাড়াই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ফেডারেশন তাকে ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ ও আর্থিক জরিমানা করেছিল, যা ৩০ অক্টোবর শেষ হয়।
নভেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য কোচ জেসুস রোনালদোকে দলে ডাকতে চেয়েছিলেন। জেসুস ও রোনালদোর বরফ গলাতে ফেডারেশন সভাপতি একটি ফোনালাপের আয়োজন করলেও রোনালদো কোচের সাথে কথা বলতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। জেসুসের দলে তাকে জোর করে ডেকে এনে আবারও বেঞ্চে বসিয়ে রেখে অপমান করার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা এড়াতেই রোনালদো স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
জাতীয় দলের হয়ে মাঠের লড়াই শেষ হলেও রোনালদো এখনই ক্লাব ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছেন না। সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসেরের হয়ে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন এবং তার ক্যারিয়ারের ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে , বর্তমানে তার গোলসংখ্যা ৯৮৫টি। পর্তুগালের জার্সি গায়ে রোনালদোর ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান যদি করা জয় তাহলে দেখা যাবে তিনি পর্তুগালের জার্সি গায়ে ম্যাচ খেলেছেন ২৩৪টি এবং গোল করেছেন ১৪৬টি যা পুরুষ আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বরেকর্ড।
জিতেছেন ২০১৬ উয়েফা ইউরো কাপ এবং উয়েফা নেশনস লিগ।
ফেডারেশন রোনালদোকে মাঠের বিদায়ী ম্যাচে না পেলেও তাকে ভিন্ন কোনো উপায়ে ট্রাইবুট বা বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা বজায় রেখেছে। ফেডারেশন তাকে পর্তুগালের "চিরন্তন অধিনায়ক" বা “ইটারনাল ক্যাপটেন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।




