নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আলোর উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার দক্ষিণ আফ্রিকার শপিং মলগুলিতে নজিরবিহীন আয়োজন। তবে শুধু উৎসব উদ্যাপন নয়, এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কেনাকাটার মরসুমও। দীপাবলিকে সামনে রেখে ক্রেতাদের টানতে শুরু হয়েছে ব্ল্যাক ফ্রাইডে-র আগাম ছাড়। ফলে এক দিনের ব্ল্যাক ফ্রাইডে-র বদলে দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ব্ল্যাক নভেম্বর’। আর সেই বিপণন কৌশলের সূচনা হচ্ছে দীপাবলির উৎসবকে কেন্দ্র করেই।
দক্ষিণ আফ্রিকায় দীপাবলি এবং ব্ল্যাক ফ্রাইডে-র সময়ের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। দীপাবলি সাধারণত নভেম্বরের গোড়ায়, অন্য দিকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে নভেম্বরের শেষ শুক্রবারে। এই দুই উপলক্ষকে এক সূত্রে বেঁধে ফেলেছে শপিং মল এবং বড় বিপণন সংস্থাগুলি। দীপাবলিকে সামনে রেখে আয়োজন করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভারতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যের প্রদর্শনী, পপ-আপ বাজার এবং নানা ধরনের প্রদর্শনীর। এর পরেই শুরু হচ্ছে আগাম ব্ল্যাক ফ্রাইডে ছাড়। পোশাক, উপহার, ঘর সাজানোর সামগ্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যে মিলছে বিশেষ অফার। ডিসেম্বরের বড়দিনের কেনাকাটা পর্যন্ত এই বিপণন পর্ব চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাগুলির।
ট্রান্সভাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের ব্যবসায়িক শাখা কংগ্রেস অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকনমিক্সের (সিবিই) ডেপুটি প্রেসিডেন্ট ইউসুফ মুসাজি জানিয়েছেন, দীপাবলি এবং ব্ল্যাক ফ্রাইডে—দুই উপলক্ষেই সোনা, গয়না এবং দামি পোশাকের মতো লাভজনক পণ্যের চাহিদা বাড়ে। পাশাপাশি বছরের শেষ দিকে ক্রেতারা নতুন বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি এবং আসবাব কেনার দিকেও ঝোঁকেন। তাঁর মতে, শপিং মলগুলি পরিকল্পিত ভাবে দীপাবলির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রঙ্গোলি, বলিউডের গান ও নাচের আয়োজন করে। এতে উৎসবে আসা সাধারণ মানুষও কেনাকাটায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। খাবারের দোকান, সুপারমার্কেট এবং বড় বিপণি সংস্থাগুলিও এর ফলে লাভবান হয়।
অ্যাভালন গ্রুপের সিইও এ বি মুসা এই পরিবর্তনকে সামাজিক সম্প্রীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁর কথায়, বর্ণবিদ্বেষের অবসানের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় শপিং মলগুলিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রায় নিষিদ্ধের মতো ছিল। এখন প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে প্রায় সব বড় মলই। এ বছর অন্তত ছ'টি বড় শপিং মলে প্রথম বার দীপাবলির অনুষ্ঠান হতে দেখেছেন তিনি।
ভারতীয় শিল্পীদের কাছেও এই আয়োজন নতুন দর্শকের সামনে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে। গায়ক অনিল রামবারান জানিয়েছেন, দীপাবলির অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শিল্পীরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছেন। পরবর্তী সময়ে অন্য অনুষ্ঠানেও ডাক পাচ্ছেন তাঁরা। দীপাবলির অনুষ্ঠান এ সপ্তাহান্তে শেষ হলেও ‘ব্ল্যাক নভেম্বর’-এর ছাড় চলবে গোটা মাস জুড়ে।




