কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) পর এবার বিক্ষোভের আঁচ প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া পোস্টার বিকৃত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে বিক্ষোভ দেখাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের বাইরে পুলিশ ব্যারিকেড করে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে কলকাতার শিক্ষামহলে।
ABVP-র সদস্যদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া পোস্টার লাগানোর কর্মসূচি নিয়েছিল তাদের সংগঠন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েও পোস্টার লাগানো হয়েছিল। কিন্তু ওই পোস্টারের উপরে কিছু শব্দ লিখে সেটি বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভের সূত্রপাত। প্রতিবাদ জানাতে বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে জড়ো হন সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা এবং ABVP-র পতাকা। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের ব্যারিকেড ধরে টানাটানি করতেও দেখা যায়। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের এলাকা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্বামী বিবেকানন্দকে অপমান করা শুধু একজন মনীষীকে অসম্মান করা নয়, বরং বাংলা ও বাঙালির আবেগে আঘাত হানার সামিল। তাঁদের বক্তব্য, স্বামীজির আদর্শ ও অবদানকে ঘিরে কোনও ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য মেনে নেওয়া হবে না। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। তবে পোস্টার বিকৃতির অভিযোগের সত্যতা এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে কলকাতার SRFTI-তেও একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেখানে ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (ABGP)-এর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ওই সংগঠনের অনুষ্ঠান কেন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের ব্যানার নিয়ে আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং মারধর করা হয়। কয়েকজন পড়ুয়া ও শিক্ষক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, ABGP-র সদস্যদের পাল্টা অভিযোগ, পড়ুয়াদের একাংশ তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেন এবং তাঁদের উপরেও হামলা চালানো হয়। অর্থাৎ, ওই ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল।
সব মিলিয়ে, একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্সির সাম্প্রতিক ঘটনায় পোস্টার বিকৃতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য সামনে আসার পরেই প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।





