কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কুনো জাতীয় উদ্যানে ফের খুশির খবর। ভারতীয় মাটিতে জন্ম নেওয়া স্ত্রী চিতা KJP21 সোমবার পাঁচটি সুস্থ শাবকের জন্ম দিয়েছে। আর এই পাঁচ নতুন অতিথির আগমনে দেশে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬০। তার মধ্যে ৪১টিই ভারতীয় মাটিতে জন্মেছে। ‘প্রজেক্ট চিতা’-র পথে এই ঘটনাকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখছে কেন্দ্র। বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে KJP21-এর ক্ষেত্রেও। মাত্র ৩২ মাস বয়সি এই স্ত্রী চিতা ভারতীয় মাটিতে জন্ম নেওয়া তৃতীয় স্ত্রী চিতা, যে এ দেশে শাবকের জন্ম দিল। এর আগে মুছি এবং KGP12 ভারতীয় মাটিতে সন্তান প্রসব করেছে। ফলে শুধু চিতার সংখ্যা বাড়ল না, কুনোর জঙ্গলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রাণীর স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনাও আরও জোরালো হল।
কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব সমাজমাধ্যমে এই সুখবর জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রজেক্ট চিতা’-র ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক এবং আনন্দের মুহূর্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, KJP21-এর জন্ম ভারতেই হয়েছিল এবং এখন সেই চিতাই ভারতের মাটিতে পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। অর্থাৎ যে প্রাণীকে একসময় ভারত থেকে কার্যত হারিয়ে যেতে হয়েছিল, তার নতুন প্রজন্ম এখন এই দেশেই বেড়ে উঠছে। আর এখানেই শেষ নয়, সদ্যোজাত পাঁচ শাবককে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। KJP21-এর সঙ্গী অর্থাৎ শাবকদের বাবা একটি বতসোয়ানা থেকে আসা পুরুষ চিতা। ফলে এই ৫ শাবকের হাত ধরে ভারতীয় চিতার বংশে বতসোয়ানা-অরিজিনের নতুন জিনগত ধারারও সূচনা ঘটল। বিশেষজ্ঞদের কাছে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও প্রজাতির সংরক্ষণে শুধু সংখ্যা বাড়ানোই নয়, জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
https://x.com/byadavbjp/status/2107026020419125353
এই সাফল্যের জন্য ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সঙ্গে যুক্ত পশুচিকিৎসক, বনকর্মী, মাঠকর্মী, আধিকারিক এবং কুনো জাতীয় উদ্যানের পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁর কথায়, সংশ্লিষ্ট সকলের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং দায়িত্ববোধের ফলেই এমন মুহূর্ত সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও ঘটনাটিকে রাজ্য তথা দেশের জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, KJP21-এর পাঁচ শাবকের জন্ম ভারতে চিতার সংখ্যা পুনরুদ্ধারের যাত্রায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এটি বড় সাফল্য। কুনোয় আফ্রিকা থেকে চিতা এনে তাদের নতুন করে ভারতীয় পরিবেশে প্রতিষ্ঠা করার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল শুধু চিতাকে ফিরিয়ে আনা নয়, তাদের স্বাভাবিক প্রজননের মাধ্যমে একটি স্থায়ী জনসংখ্যা গড়ে তোলা। একের পর এক শাবকের জন্ম সেই লক্ষ্য পূরণের পথেই আশার আলো দেখাচ্ছে।
সব মিলিয়ে KJP21-এর পাঁচ শাবকের জন্ম ‘প্রজেক্ট চিতা’-র সাফল্যের খাতায় আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করল। একসময় ভারতে চিতার অস্তিত্বই মুছে গিয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক পর সেই প্রাণীকে ফের ভারতীয় জঙ্গলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু হয়। তারপর আফ্রিকা থেকে আসা চিতাদের ভারতীয় পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, তাদের বেঁচে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত ভারতীয় মাটিতেই নতুন প্রজন্মের জন্ম—পুরো প্রক্রিয়াটিই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় ধীরে ধীরে সাফল্যের ছবি স্পষ্ট হচ্ছে। KJP21-এর পাঁচ শাবকের জন্মের ফলে দেশে চিতার সংখ্যা ৬০-এ পৌঁছনো সেই যাত্রাকেই আরও শক্ত ভিত দিল। কুনোর জঙ্গলে এখন এই পাঁচ খুদে চিতার বেড়ে ওঠার দিকে নজর থাকবে বন দফতর ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। কারণ আজকের এই পাঁচ শাবকই আগামী দিনে ভারতের মাটিতে চিতার স্থায়ী জনসংখ্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
