মালদা, নিউজ ডেস্ক: কলেজের গেটের সামনে হঠাৎ জমতে শুরু করেছিল ভিড়। একদিকে হাতে ব্যানার-প্লেকার্ড, অন্যদিকে পাল্টা স্লোগান। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে শুরু হয় চাপা উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মালদা কলেজে বুধবারের ঘটনাকে ঘিরে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মালদা কলেজে একাধিক সমস্যা ও বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনা। কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ, পানীয় জল সমস্যা,রেগিং সহ একাধিক অভিযোগ সামনে রেখে ডেপুটেশন ছাত্র সংগঠন পরিষদের তরফে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। আর এই ডেপুটেশনকে ঘিরে উত্তেজনা মালদা কলেজে। মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈসা খান চৌধুরী নেতৃত্বে একাধিক দাবি নিয়ে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদ মালদা কলেজে ডেপুটেশন দিতে যায়।আর সেখানেই কলেজ গেটের সামনে তাঁদের ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। দু পক্ষের মধ্যে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজন। মোতায়ন রয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর এই পরিস্থিতি ঘিরে কলেজ চত্বরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।
জানা গিয়েছে, বুধবার মালদা কলেজে ব্যানার ও প্লেকার্ড হাতে ছাত্র পরিষদের কর্মীসমর্থকরা কলেজের গেটের সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন রকম অনিয়ম, বহিরাগত দিয়ে প্রবেশ, দুষ্কৃতীদের তান্ডব, রেগিং সহ একাধিক দাবিতে ছাত্র পরিষদের এই ডেপুটেশন কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সহ মালদা দক্ষিণের সংসদ ইশা খান চৌধুরী। ডেপুটেশনের প্রথমে ব্যানার প্লাকার হাতে ছাত্র পরিষদের ছাত্রছাত্রীরা মালদা কলেজ গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পাশাপাশি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের অভিযোগ ছাত্র পরিষদ ডেপোজিশন দেওয়ার নামে বহিরাগতদের নিয়ে এসেছে। যারা পরবর্তী বহিরাগতদের কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেবেনা। আর সেই কারণেই তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তাঁদের দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসে কোন বহিরাগতকে কোনওভাবেই ঢুকতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, ছাত্র পরিষদের অভিযোগ তাঁদের শান্তিপূর্ণ ডেপুটেশন কর্মসূচি কলেজ গেটেই আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কংগ্রেস সংসদ ইশা খান চৌধুরী ও ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি আসিফ শেখের অভিযোগ কলেজের সমস্যাগুলি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতেই তাঁরা এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের বাধা দিয়ে কলেজের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। তাঁরা জানান, এইভাবে জোরপূর্বক কোনও কিছু আটকানো যায় না। পাল্টা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সংযোজক শুভজিৎ মালাকার বলেন, কলেজ ক্যাম্পাস শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। ক্যাম্পাসের মধ্যে রাজনৈতিক রঙ লাগাতে দেওয়া যাবে না। যাঁরা কলেজের ছাত্রছাত্রী তাঁরা ডেপুটেশন দিতে পারে। বহিরাগতদের কলেজ ক্যাম্পাসে এসে এই ধরনের দাদাগিরি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না এবং ক্যাম্পাসের মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করা চলবে না।
দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বুধবার মালদা কলেজ চত্বরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও মালদা কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
