দেশজুড়ে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলন ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মুখ খুললেন ক্রিকেট কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের পারদ চড়তেই দেশের তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের সূচনালগ্নে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আহ্বানে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক দিল্লিতে ‘চলো পার্লামেন্ট’ অভিযানের ডাক দেন। জন্তর মন্তরে জমায়েত রুখতে পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ব্যারিকেড তৈরি করে এবং লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
যুবরাজ সিংয়ের পর এবার সচিনের এই ইস্যুতে মুখ খোলা ক্রীড়াজগতের নীরবতা ভাঙার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সচিন তাঁর অধ্যাপক বাবার শিক্ষা স্মরণ করে জানান,"ব্যর্থ হওয়া চলবে, কিন্তু প্রতারণা কখনও নয়। শর্টকাটের পথ বেছে নিও না।' সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে পরিশ্রম ও যোগ্যতাকে মূল্য দেওয়া হয়। যে সমাজ কেবল ফলাফলের উপর জোর দেয়, সেই সমাজ একসময় যোগ্যতার বদলে শর্টকাটের পথই বেছে নেয়।"যাঁরা সততার সাথে লড়াই করেও উপযুক্ত মূল্যায়ন পাননি, সেই হতাশ যুবকদের ক্ষোভকে সচিন স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট জানান--অভিভাবক, শিক্ষক,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ছাত্রকে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়। সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও আশাকে সুরক্ষিত রাখার যৌথ দায়িত্ব পুরো সমাজের। বার্তার শেষে সচিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছার মাধ্যমে একটি অর্থবহ সমাধান সম্ভব। কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন ও সততাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান জানান তিনি, যা দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তিকে অনুপ্রাণিত রাখবে।
এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য--""আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে, সততাকে উৎসাহ দেওয়া হবে এবং যোগ্যতারই জয় হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা সকলে মিলে এমন সমাধান খুঁজে বের করতে পারব, যা আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষিত রাখবে। জয় হিন্দ!"