নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বিভিন্ন প্রশাসনিক বিভাগে প্রায় দেড় লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের বড়সড় ঘোষণা হয়েছে। কর্মসংস্থানের এই আবহেই সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে খোদ স্কুল শিক্ষকদের একাংশের অসহযোগিতা।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার খাতা দেখতে গিয়ে শিক্ষকদের এই অনীহায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন। জট কাটাতে শেষ পর্যন্ত স্কুলশিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের হস্তক্ষেপ চাইতে হয়েছে কমিশনকে। পরিস্থিতি জটিল বুঝে রাজ্যের সমস্ত জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকদের দ্রুত ময়দানে নামার নির্দেশ দিল বিকাশ ভবন।
গোটা বছর জুড়ে মিসলেনিয়াস, ক্লার্কশিপের মতো অন্তত ১২৩ টি বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা করে পিএসসি। এই সমস্ত পরীক্ষার চূড়ান্ত বা ‘মেইনস’ পর্বে প্রার্থীদের মেধার আসল পরীক্ষা হয় বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। সংবাদ প্রতিবেদন রচনা, অনুবাদ কিংবা প্রবন্ধের মতো বর্ণনামূলক উত্তরের মূল্যায়নের জন্য কমিশন মূলত সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের অভিজ্ঞ বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের ওপরই ভরসা রাখে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ভরসার জায়গায় ধরেছে বড়সড় চির।
স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব তথা প্রধান সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে পিএসসি-র সচিব কমিশনের গভীর উদ্বেগের কথা স্পষ্ট তুলে ধরেছেন। চিঠিতে অভিযোগ, বহু শিক্ষককে পরীক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হলেও তাঁরা সরাসরি দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছেন। আবার অনেকে দায়িত্ব নিয়েও কোনো কারণ না দেখিয়ে মাসের পর মাস খাতা ফেলে রাখছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ে মেধা তালিকা প্রকাশ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
সমস্যার এখানেই শেষ নয়। কমিশনের অভিযোগের তির উঠেছে একাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের দিকেও। খাতা দেখা বা মূল্যায়নের জন্য কমিশন থেকে শিক্ষকদের জন্য ‘অন ডিউটি’ ছুটির নথিপত্র দেওয়া হলেও, বহু প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের সেই ছাড়পত্র দিচ্ছেন না। এমনকী কমিশনের কাজে যাওয়ার অনুমতি পর্যন্ত আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই টানাপোড়েনে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। পিএসসি-র সেই চিঠি হাতে পাওয়ার পরেই আর কালবিলম্ব করেনি শিক্ষা দপ্তর। স্কুলশিক্ষা অধিকরণ বিভাগের প্রশাসনিক অফিসার তড়িঘড়ি রাজ্যের ২৩টি জেলার ডিআই-কে কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পিএসসি-র মূল্যায়নের কাজে মনোনীত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ যাতে কোনোভাবেই বাধা না পায়, তার জন্য জেলাস্তরে অবিলম্বে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।