কলকাতা , নিউজ ডেস্ক: পুজোর আনন্দে মেতে ওঠার আগে শরীর নিয়ে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাড়তি ওজন, ক্রমশ বেড়ে চলা ভুঁড়ি কিংবা হাঁটু ও কোমরের অস্বস্তি অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করে। তার উপরে রয়েছে রক্তের শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার চিন্তা। শরীরচর্চার জন্য জিমে যাওয়া বা দামি সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন নেই সব সময়। বাড়িতে থাকা একটি সাধারন চেয়ারকে কাজে লাগিয়ে করা যেতে পারে কয়েকটি সহজ ব্যায়াম। তবে, নিয়মিত শরীর চর্চা করলেই যে দ্রুত ওজন কমবে বা বাতের ব্যথা সম্পূর্ণ সেরে যাবে এমনটাও নিশ্চিত নয়।
চেয়ার ব্যবহার করে করা যাবে এই পাঁচ ধরনের ব্যায়াম। চলুন সেগুলিকে সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক--
১. চেয়ার পিজিয়ন পোজ - প্রথমে চেয়ারে পিঠ সোজা রেখে বসুন। এবার একটি পা ভাজ করে অন্য পায়ের উরুর ওপর রাখুন। শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে যান। এভাবে কয়েক সেকেন্ড থাকার পর আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। দুই পায়ের ক্ষেত্রে একইভাবে অভ্যাস করুন। তবে, হাঁটু বা কোমরে ব্যথা থাকলে এই অভ্যাস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
২. সিটেড সিট আপ - প্রথমে চেয়ারে মেরুদন্ড সোজা করে বসে দুই হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে দিন। এবার দুই পা ধীরে ধীরে মাটি থেকে তুলে বুকের দিকে আনার চেষ্টা করুন। তারপর আবার পা নামিয়ে দিন। এই অভ্যাস প্রথমে অল্প কয়েকবার করুন। শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে অভ্যাস বাড়াতে পারেন।
৩. চেয়ার যোগ ব্রিদিং- চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। কাঁধ শিথিল রাখুন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিন। এতে মানসিক চাপ কমাতে এবং মন শান্ত রাখতে সাহায্য মিলতে পারে। অস্বস্তি হলে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসে ফিরে আসুন।
৪. সিটেড লেগ রেজ - প্রথমে চেয়ারে বসে সামনের দিকে একটি পা সোজা করে রাখুন। পা মেঝের থেকে অন্তত চার থেকে ছয় ইঞ্চি তুলে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন। তারপর ধীরে ধীরে নামিয়ে রেখে অন্য পায়ে একইভাবে করুন। এই ব্যায়াম পায়ের পেশি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৫. সিট টু স্ট্যান্ড - চেয়ারে বসে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান। কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে আবার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে চেয়ারে বসুন। ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে নিরাপদ অবলম্বন ব্যবহার করুন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই ব্যায়াম অভ্যাস করুন।
শুধুমাত্র ব্যায়াম করলে দ্রুত ওজন কমবে কিংবা বাতের ব্যথা সেরে যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা আর্থ্রাইটিস থাকলে নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্যথা বা মাথা ঘোরার মত সমস্যা দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করুন। মনে রাখবেন শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য কঠিন নিয়মের চেয়ে নিয়মিত ও নিরাপদ অভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।