নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দশভুজা মা দুর্গার রূপ। কিন্তু এবার সেই চেনা রীতির বাইরে পুরাতন মালদার মুচিয়া মহাদেবপুর গ্রামে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজিত হন চার হাতের মা দুর্গা। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে এই পুজো করে আসছে চক্রবর্তী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চক্রবর্তী পরিবারের এক পূর্বপুরুষকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন দেবী। তারপর থেকেই শুরু হয় এই বিশেষ দুর্গাপুজো। প্রচলিত দশভুজা রূপের পরিবর্তে চার হাতের প্রতিমায় দেবীকে আরাধনা করার রীতি সেই সময় থেকেই চলে আসছে। সময় বদলেছে, বদলেছে পরিবারের সদস্যও একইসঙ্গে বদলেছে পুজোর আয়োজনের ধরন। কিন্তু দেবীর রূপ এবং প্রাচীন পুজোর মূল রীতিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি।
পুজোর দিনগুলিতে চক্রবর্তী বাড়িতে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। শুধু পরিবারের সদস্যরাই নন, দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও ভিড় জমান এই বাড়ির ঠাকুর দালানে। বিশেষ করে চার হাতের দুর্গাপ্রতিমা দেখতে মানুষের কৌতূহল থাকে চোখে পড়ার মতো। প্রথাগত দুর্গাপুজোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই পুজো। তবে প্রতিমার রূপই হয়ে উঠেছে এই পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং পূর্বপুরুষের বিশ্বাস ও স্বপ্নাদেশের উত্তরাধিকার। দীর্ঘ সাড়ে তিনশো বছর ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্যেও সেই বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছে চক্রবর্তী পরিবার। পুজোর প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানেই তাই মিশে রয়েছে পুরনো দিনের স্মৃতি ও পারিবারিক আবেগ।
মুচিয়া মহাদেবপুরের এই চতুর্ভূজা মা দুর্গার পুজো শুধু একটি নির্দিষ্ট রূপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা বিশ্বাস, সংস্কার এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতীক এই পুজো।