কমনওয়েলথ গেমসে এ বার ভারতের পদকসংখ্যা গতবারের তুলনায় কমে অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের। তবে গ্লাসগোয় প্রথম দিনেই সেই আশঙ্কার মেঘ অনেকটা সরিয়ে দিলেন ভারতীয় লন বোলস তারকারা। মেয়েদের জোড়া বিভাগে রূপা রানি তিরকে ও পিঙ্কি সিং যেমন জয়ের হাসি হাসলেন, তেমনই পুরুষদের সিঙ্গলসে প্রথম বার কমনওয়েলথে নেমেই প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে চমকে দিলেন অসমের পুতুল সোনোয়াল।
দিনের প্রথম সুখবর আসে মেয়েদের পেয়ার্স বিভাগ থেকে। মালটার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই দাপট দেখান রূপা-পিঙ্কি। প্রথম সেট ৭-১ ব্যবধানে জিতে নিলেও দ্বিতীয় সেটে ৪-৩ হেরে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুর লড়াইয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে বাজিমাত করেন ভারতীয় জুটি। ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রূপা ও পিঙ্কি। চার বছর পর আবারও পদকের আশা জাগালেন তাঁরা।
নজর ছিল পুরুষদের সিঙ্গলসেও। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতার বিচারে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন পুতুল। প্রতিপক্ষে ছিলেন ২০২৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও কমনওয়েলথ পদকজয়ী কানাডার রায়ান বেস্টার। কিন্তু নামের ভারে ভেঙে পড়েননি অসমের খেলোয়াড়। টানটান লড়াইয়ে প্রথম সেট ৫-৪ জিতে নেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় সেটে একপেশে হেরে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়।
সেখানেই দেখা যায় পুতুলের আসল মেজাজ। চাপের মুহূর্তেও স্নায়ু ঠান্ডা রেখে একের পর এক নিখুঁত শট খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হারিয়ে দেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বেস্টারকে। কমনওয়েলথ গেমসে অভিষেকেই এমন জয় শুধু ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাসই বাড়াল না, লন বোলসে আরও একটি পদকের স্বপ্নও উস্কে দিল।