দীর্ঘদিনের চোট, ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং আত্মবিশ্বাসের টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে সাফল্যের মঞ্চে ফিরলেন পিভি সিন্ধু। রবিবার টোকিও মেট্রোপলিটন জিমনেশিয়ামে জাপান ওপেনের মহিলাদের একক ফাইনালে বিশ্বের ৩ নম্বর বাছাই জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৭ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন ভারতের তারকা শাটলার। প্রায় ১৯ মাস পর আবার আন্তর্জাতিক খেতাব জিতে স্বস্তির হাসি সিন্ধুর মুখে।
এই জয়ের সঙ্গে ইতিহাসও গড়লেন তিনি। জাপান ওপেনে একক শিরোপা জয়ী প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হলেন সিন্ধু। গত কয়েক বছর তাঁর কেরিয়ার ছিল চোট, ছন্দপতন এবং হতাশায় ভরা। নতুন প্রজন্মের ব্যাডমিন্টন তারকাদের উত্থানের মাঝেও নিজের সেরাটা ফিরে পাওয়ার জন্য নিরন্তর লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।
বছরের শুরুটাও ভালো ছিল না সিন্ধুর। ইন্ডিয়া ওপেনে প্রথম ম্যাচেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁকে। তখন তিনি বলেছিলেন, আধুনিক ব্যাডমিন্টনে দীর্ঘ র্যালি ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মানসিক এবং শারীরিকভাবে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকতে হয়। সেই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই নিজের ফিটনেস ও খেলার ধরনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন ভারতের দু'বারের অলিম্পিক পদকজয়ী এই তারকা।
জাপান ওপেনের ফাইনালে সেই পরিশ্রমেরই ফল মিলল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাডমিন্টন খেলেন সিন্ধু এবং ইয়ামাগুচিকে চাপে রাখেন। দীর্ঘ র্যালির লড়াইয়েও ধৈর্য হারাননি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে প্রথম গেম নিজের করে নেন। দ্বিতীয় গেমেও একই ছন্দ বজায় রেখে সোজা গেমে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই শিরোপা শুধু তাঁর আত্মবিশ্বাসই ফিরিয়ে দিল না, ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের কাছেও নতুন আশার বার্তা হয়ে উঠল।




