নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের অন্দরেই কি বাড়ছে অসন্তোষ? সরকারেরই ২০০ জন আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের তথ্য দিচ্ছেন! সোমবার এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও কোন কোন আধিকারিক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কিংবা কী ধরনের তথ্য তাঁরা বিরোধীদের দিচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কংগ্রেস নেতা।
সোমবার INDIA জোটের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট অভিযানকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানেই তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। শুধু যোগাযোগ রাখাই নয়, তাঁরা বিভিন্ন তথ্যও সরবরাহ করছেন বলে দাবি করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
রাহুলের কথায়, “আপনাদের সরকারের ২০০ জন আধিকারিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁরা আমাদের তথ্য দিচ্ছেন।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি সরকারি প্রশাসনের একাংশের মধ্যে এমন কোনও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সামনে আসছে?
তবে রাহুল গান্ধীর এই দাবির সমর্থনে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও নথি, নির্দিষ্ট তথ্য বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পরিচয় সামনে আসেনি। ফলে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগও এখনও সীমিত। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে INDIA জোট। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধীদের প্রস্তাবিত পদযাত্রা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।