নয়াদিল্লি: দিল্লিতে INDIA জোটের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পুলিশের একাংশকে নিয়ে বড় দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, প্রায় ৫০ শতাংশ পুলিশকর্মী বিরোধীদের জানাচ্ছেন যে তাঁরা যা করছেন, তা ঠিক করছেন। এমনকী, তরুণদের মারধর করতে কেন বলা হচ্ছে, তা নিয়েও পুলিশের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা নিয়ে পুলিশকর্মীদের একাংশের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণদের মারধর করার নির্দেশ কেন দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে পুলিশকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
রাহুলের দাবি, শুধু পুলিশ বিভাগেই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যেও এই ধরনের প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের একাংশ বিরোধীদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সহমত পোষণ করছেন।
এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী বলেন, “৫০ শতাংশ পুলিশকর্মী আমাদের বলেন, আপনারা যা করছেন, তা ঠিক। এভাবেই চালিয়ে যান।”
তবে রাহুল গান্ধীর এই দাবির সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট পুলিশকর্মীর পরিচয় বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে পুলিশের কত শতাংশ কর্মী সত্যিই এমন মনোভাব পোষণ করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি তুলে INDIA জোটের আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলের পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নাগরিকদের প্রতিবাদ জানানোর অধিকারের প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।
রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই বিতর্কই নতুন মাত্রা পেল। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক মহলেই সীমাবদ্ধ নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যেও তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী, আধাসামরিক বাহিনী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে কেন্দ্রের সরকার বা দিল্লি পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
