নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের নীতির বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন দেশের সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা আর সেই স্বতঃস্ফূর্ত গণপ্রতিরোধের পর দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট জানান, ভয় দেখিয়ে, ধমকে বা গায়ে হাত তুলে দেশের মানুষের আওয়াজকে স্তব্ধ করা যাবে না। সংবিধান ও গণতন্ত্র বাঁচাতে এই লড়াই এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
একটি ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, এই প্রতিবাদে শামিল হওয়া প্রত্যেকটি মানুষকে তিনি অন্তর থেকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন। যারা সরাসরি রাস্তায় নেমেছেন এবং যারা দূর থেকে নানাভাবে সমর্থন জুগিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বিশেষ করে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের নেতৃত্ব, কংগ্রেস ও জোটের অগণিত কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাহুল। তিনি বলেন, “সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি যৌথ দলের মতো কাজ করেছেন।”
https://www.facebook.com/share/v/1M1ndn4173/
তিনি স্পষ্ট বলেন, সরকারকে একটি বার্তা স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার ছিল যে, এ দেশের মানুষকে ভয় পাইয়ে দমিয়ে রাখা যায় না। “আমাদের মারধর করা যাবে না, হুমকি দেওয়া যাবে না বা ডর দেখানো যাবে না।”
বিজেপি ও আরএসএস-কে কড়া ভাষায় বিঁধে রাহুল টেনে আনেন অতীতের নানা হিংসার প্রসঙ্গ। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, “আমি যখন বাসে করে যাচ্ছিলাম, তখন ভাবছিলাম, আরএসএস-এর সেই ভীরুরা আজ কোথায়, যারা দিনকয়েক আগে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গায়ে হাত তুলেছিল? আজ দেশের মানুষ যখন একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছে, তখন তারা কোথায় মুখ লুকাল?” তাঁর তোপ, প্রধানমন্ত্রীর মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এরা কেবল দুর্বলকে আক্রমণ করতেই জানে, সরাসরি মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস এদের নেই।
রাহুল জানিয়ে দেন, বিরোধীদের মধ্যে কোনও আলাদা বা খণ্ডিত আন্দোলন নেই,এটি দেশের একটিমাত্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। এই আন্দোলন গণতন্ত্র ও সংবিধানকে ধ্বংস করতে চাওয়া শক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর বার্তা, “সংবিধান ও আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করার লড়াইয়ে যারা আজ বুক চিতিয়ে রাস্তায় নেমেছেন, তাঁদের জন্য আমি গর্বিত।” শেষ পর্যন্ত কোনও চাপের কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।