নিউজ ডেস্ক: যান্ত্রিক গতি আর ব্যস্ততার এই সময়ে মানুষ যখন কেবল নিজের পথ চলায় মগ্ন, তখন এক অনাবিল মানবিকতার নজির তৈরি করলেন এক ভারতীয় রেলকর্মী। চলন্ত ট্রেনের গতি রদ করে, নিজের প্রাণ সংশয়কে উপেক্ষা করে রেললাইনের ওপর দিশেহারা হয়ে পড়া একটি নিরীহ মোষের প্রাণ বাঁচালেন তিনি। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন ওই সহৃদয় কর্মী।
সাধারণত দূরপাল্লার কিংবা যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিবেগ অত্যন্ত বেশি থাকে। বাঁক বা ফাঁকা এলাকায় অনেক সময় রেললাইনের ওপর হঠাৎ গবাদি পশু উঠে এলে বড়সড় বিপত্তি ঘটে। দুর্ঘটনা যেমন অবধারিত হয়ে ওঠে, তেমনই লাইনে থাকা অবলা পশুদের প্রাণ যাওয়ার ঘটনাও বিরল নয় কিন্তু সম্প্রতি ধরা পড়া এক দৃশ্যে দেখা গেল একেবারে বিপরীত এক মানবিক ছবি।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি যাত্রীবাহী ট্রেন সবুজ পাহাড়ি ঢালের মধ্য দিয়ে লাইন ধরে এগিয়ে আসছে। লাইনের ওপর আচমকাই উঠে আসে কয়েকটি মোষ। বাকিগুলো সরে গেলেও একটি বিভ্রান্ত মোষ দীর্ঘক্ষণ রেললাইনের ওপর দিয়ে ট্রেনের ঠিক সামনেই দৌড়াতে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে ট্রেনের সামান্য গতি বাড়লেই ওই প্রাণীটি ট্রেনের চাকার তলায় পিষে যেতে পারত কিন্তু চালকের আসনে থাকা ব্যক্তিরা কেবল হর্ন বাজিয়ে দায় সারেননি। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চালক বিচক্ষণতার সঙ্গে ট্রেনের গতি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনেন। এরপরই ট্রেনের সামনের কেবিনের দরজা খুলে সাহসিকতার সঙ্গে নিচে নেমে আসেন এক রেলকর্মী।
https://x.com/ImPromila/status/2104401242097377358
ট্রেনটি ধীরগতিতে পেছনে চললেও, তিনি নিজের সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে ট্র্যাক বরাবর মোষটির পেছনে ছুটতে শুরু করেন। হাত নেড়ে, চিৎকার করে তিনি মোষটিকে লাইন থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার তাগিদ দেন। শেষপর্যন্ত ওই কর্মীর তৎপরতায় মোষটি ঘাবড়ে গিয়ে লাইন ছেড়ে পাশের ঢালু জমিতে নেমে যায়।
প্রাণীটি সম্পূর্ণ নিরাপদে সরে যাওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে ওই কর্মী শান্ত পায়ে হেঁটে আবার ইঞ্জিনের দিকে ফিরে আসেন এবং ট্রেনটি পুনরায় তার স্বাভাবিক গতিপথ ধরে এগিয়ে চলে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সাধারণ মানুষের চোখে জল এনে দিয়েছে। নেটিজেনদের বক্তব্য, ট্রেনের গতি থামিয়ে এভাবে নেমে এক অবলা পশুর জীবন বাঁচানো শুধু দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, এর জন্য প্রয়োজন গভীর মমত্ববোধ ও সত্যিকারের বুকের পাটা। পেশাগত কর্তব্যের চেয়েও জীবনের মূল্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই দৃষ্টান্ত বর্তমান সময়ে সত্যিই বিরল।
