রাজস্থান, রেশমি ব্যানার্জি: স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। সিজেপির সদস্যদের দেখে কার্যত উত্তেজনা গ্রামে। রাজস্থানের একাধিক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এমনই হেনস্থার শিকার হতে হলো সিজেপির নেতৃত্ব দের। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আবহে দেশ জুড়ে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার কর্মসূচি নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি । সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে রাজস্থানের একাধিক স্কুলে পরিদর্শনে গিয়ে এবার প্রবল বাধার মুখে পড়লেন দলের নেতা-কর্মীরা।
সিজেপির অভিযোগ, কর্মসূচিতে বাধা দেয় বিজেপি সমর্থিত বেশ কয়েকজন। এই ঘটনা ঘিরে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শুক্রবার জয়পুরের রামপুরা-কানওয়ার গ্রামে একটি সরকারি স্কুলে সিজেপি নেতৃত্ব পৌঁছতেই চরম উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন দলীয় প্রতিনিধিরা। ঘটনায় তাঁদের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে দেখা গেছে সিজেপি সমর্থিত বেশ কয়েকজন সমর্থকের গাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়।।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দলের কো-কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কার উপস্থিতিতে সিজেপি প্রতিনিধি দল রামপুরা-কানওয়ার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছয়। সদস্যরা গ্রামে পৌঁছতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসীরা মনে করছেন, সিজিপি সদস্যরা মনে করেছিল বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রের সংখ্যা ২০-২৫ জন। তাই হয়তো স্কুল ভেঙ্গে দেওয়া হতে পারে। সেই ভয় থেকেই তাঁরা দলীয় কর্মীদের গ্রামে ঢুকতে নিষেধ করেন।
অন্যদিকে সিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁরা স্কুলের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেই গিয়েছিলেন। কথা কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সিজেপি কর্মীদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও পরিস্থিতি খারাপ পর্যায়ে পৌঁছলে সেখান থেকে এলাকা ছাড়েন সিজেপি সদস্যরা। গোটা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলীয় নেতৃত্ব। যদিও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মতপার্থক্য।
সমাজমাধ্যমে আশুতোষ রাঙ্কার দাবি করেন, সাধারণ গ্রামবাসী নন, বরং বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই তাঁদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। তাঁর কথায়, ওই স্কুলে কার্যত গোয়ালঘরে বসিয়ে শিশুদের পড়ানো হচ্ছে। সেই আসল সত্য যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সেজন্যই এই হিংসা ছড়ানো হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক প্রশ্ন তুলেছেন, এ হেন হামলার মুখেও রাজস্থান পুলিশ কেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
প্রসঙ্গত নিট পরীক্ষা এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিল্লিতে অবস্থানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। শুধু সমাজ মাধ্যম নয় দিকে দিকে এই দলের প্রচার ও প্রসার বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবে রাজস্থানের এই ঘটনা নতুন নয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া বহিরাগতদের স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকার মধ্যেই সিজেপির এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা চরমে উঠেছে। তবে এই জল আরো কতদূর গড়ায় সেদিকে তাকিয়ে ওয়াকিবহালমহল। সি জে পি ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক ইসু ঘিরে চর্চা বাড়ছে।