কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে লাদাখের দ্রাসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারত এখন সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসে মদতদাতা শক্তির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পাকিস্তানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর মন্তব্য, "তাদের প্রতিটি শয়তানির এমন জবাব দেওয়া হবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।"
অনুষ্ঠানের শুরুতে কার্গিল যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এরপর ভাষণে তিনি বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান কার্যত সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশে পরিণত করেছে। তাঁর দাবি, সে দেশের সেনাবাহিনী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে পার্থক্য প্রায় মুছে গিয়েছে। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়ই নয়, তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজও করছে পাকিস্তানের সেনা।
রাজনাথ সিং বলেন, সাম্প্রতিক অপারেশন 'সিঁদুর'-এর সময় ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন এবং তাদের মদতদাতা সরকারকে আলাদা করে দেখা হবে না। তাঁর কথায়, "ভারত নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যদি পাকিস্তান আবার কোনও উসকানিমূলক কাজ করে, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।"
বক্তব্যে তিনি পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এর প্রসঙ্গও তোলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে যদি ভবিষ্যতে কোনও আলোচনা হয়, তবে তা শুধুমাত্র পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। কারণ, পিওকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান তা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
ভারত ও পাকিস্তানের উন্নয়নের ধরণ তুলনা করেও কড়া মন্তব্য করেন রাজনাথ। তিনি বলেন, ভারত যেখানে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, সেখানে পাকিস্তান এখনও সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, "ভারত যখন জাহাজ নির্মাণ, আধুনিক অবকাঠামো এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, তখন পাকিস্তান ব্যস্ত সন্ত্রাসবাদের নকশা তৈরিতে।"
কার্গিল যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সেনানীদের আত্মত্যাগ কোনওদিন ভোলা যাবে না। তাঁদের অসীম সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেশপ্রেম আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান অনন্য এবং জাতি তাঁদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজনাথ সিং। তিনি লেখেন, মাতৃভূমির সুরক্ষায় যাঁরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের প্রতি দেশের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা চিরকাল অটুট থাকবে। কার্গিল বিজয়ের এই গৌরবময় ইতিহাস দেশের প্রতিটি নাগরিককে দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




