নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে INDIA জোটের আন্দোলন ঘিরে এবার সরাসরি বিরোধীদের নিশানা করলেন বিজেপি নেতা রবীন্দ্র রায়না। বিরোধীদের বিক্ষোভকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আজ ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেই কমিশনের পরিচালিত নির্বাচনেই জম্মু ও কাশ্মীরে বিপুল জয় পেয়েছিলেন ওমর আবদুল্লা। তাহলে কি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতেও নির্বাচনে কারচুপি করেছিল কমিশন?
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছে INDIA জোট। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর অভিমুখে বিরোধীদের মিছিল ঘিরে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে। ৬ অক্টোবরের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।
এই পরিস্থিতিতেই বিরোধীদের অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রবীন্দ্র রায়না। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের শাসনকালেই দেশে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা EVM-এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। অথচ এখন সেই কংগ্রেসই নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রায়নার যুক্তি, নির্বাচনে বিরোধী দলগুলি জয়ী হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে না। কিন্তু ফলাফল প্রত্যাশামতো না হলেই কমিশন এবং EVM-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বিজেপি নেতা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেস জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ওমর আবদুল্লা নিজেও বুদগাম এবং গান্দেরবাল—দুটি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। পরবর্তী সময়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এই ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে রায়না জানতে চান, বিরোধীদের যুক্তি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যদি পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে জম্মু ও কাশ্মীরে বিরোধী জোটের জয়কে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?
অন্যদিকে, INDIA জোটের দাবি, SIR প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে বিরোধী শিবির।
তবে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি ভোটার তালিকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ৮ অক্টোবরও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
ফলে একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্যদিকে সেই আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ দুইয়ের সংঘাতে জাতীয় রাজনীতিতে SIR বিতর্ক আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।
