নিউজ ডেস্ক: এবার রেজিনগর থানার সামনে ফের ধর্নায় বসলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি, মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার এবং ‘অত্যাচারের’ অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান শুরু করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের পুরুষ কর্মীদের বাড়িছাড়া করার চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি দলের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, তাঁর দলের কর্মীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশি পদক্ষেপের জেরে দলের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুরুষ কর্মীদের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, মহিলা কর্মীদের বলা হচ্ছে হুমায়ুন কবীরের দল করা যাবে না। এটা কী গণতন্ত্র? এই অভিযোগের প্রতিবাদেই থানার সামনে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১০টার পর থেকে রেজিনগর থানার সামনে তাঁর ধর্না শুরু হয়েছে বলে জানান আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। ধর্না মঞ্চ থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কোনও কর্মীকে হয়রান করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। হুমায়ুন কবীর কথায়, বিজেপির নির্দেশে পুলিশ ভোট লুট করার চক্রান্ত করছে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুসলিম পরিবারদেরকে বলছে তারা যেন ভোটের দিন, অর্থাৎ ৬ অক্টোবর পর্যন্ত নিজেদের বাড়িতে না থাকেন। ভোট শেষ হলে আবার বাড়িতে ফিরে আসতে পারবেন।' হুমায়ুনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
এর আগেও শক্তিপুর থানার সামনে হুমায়ুন কবীর অবস্থান বিক্ষোভ করেছিলেন। সেই সময়ও তাঁর অভিযোগ ছিল, শক্তিপুর থানার পুলিশ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মী সমর্থকদেরকে মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার করছে এবং তাঁদের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালাচ্ছে। সেবার গোবরের উপর প্লাস্টিক পেতে তার উপর চেয়ার নিয়ে বসে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সারারাত শক্তিপুর থানার সামনেই কাটান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
এবার ফের থানার সামনেই ধর্নায় বসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ধর্না কতক্ষণ চলবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি হুমায়ুন কবীর। তবে দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
