তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সংঘাতের আবহ আরও তীব্র করে তুললেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসকে নিশানা করে এবার চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শাণালেন তিনি। কল্যাণের সাফ দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের খবরদারি এবং ভোটকুশলী সংস্থা 'আইপ্যাক'-এর বাড়বাড়ন্তই তৃণমূলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিষেকের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায়ের বিরুদ্ধেও একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদের দাবি, সংগঠন পরিচালনার নামে ক্যামাক স্ট্রিটের সমান্তরাল প্রশাসন চালানো হচ্ছিল। সুমিত রায়ের নির্দেশে দল করতে গিয়ে আজ বহু সাধারণ নেতা-কর্মী চরম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। পুলিশের তরফে তাঁদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট একটি শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিষেকের ছত্রছায়ায় থেকে অনেকেই অন্যায় করে পার পেয়ে যাবেন বলে ভেবেছিলেন, কিন্তু আজ পরিস্থিতি বদলেছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন-- “আইপ্যাক এবং অভিষেকের কাছ থেকে যাঁরা সবথেকে বেশি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, নিজেদের 'অভিষেকের লোক' বলে বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, আজ তাঁরাই সবথেকে বড় বিদ্রোহী। অভিষেক বাঁচিয়ে দেবে এই অহংকারে তাঁরা অন্যায় কাজ করে গিয়েছেন। এখন তাঁরাই আবার অভিষেকের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি সরব হচ্ছেন।”
অতীতেও আইপ্যাকের ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন জানিয়ে কল্যাণ বলেন, সেই সময় কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেও অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ ও ‘অসম্মানজনক আচরণ’কে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন প্রবীণ এই নেতা। তাঁর মতে, সময় থেকেও কোনো শিক্ষা নেননি অভিষেক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে 'নবীন বনাম প্রবীণ' দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। কল্যাণের এই সাম্প্রতিকতম বিস্ফোরণ শাসক দলের ভেতরের ফাটলকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল, যা আগামী দিনে দলের অন্দরে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।