২১ জুলাই উপলক্ষে নব তৃণমূলের শহিদ দিবসের সভা থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবারগুলির জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি দলের আর্থিক স্বচ্ছতা, ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট এবং বিজেপির সঙ্গে ‘সমঝোতা’র অভিযোগও তুললেন তিনি।
সভায় ঋতব্রত দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নব তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মহেশতলায় বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি বাস না বের করার জন্য হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানান, সভা শেষে এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। পাশাপাশি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “রক্তচক্ষু দেখিয়ে আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না।”
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ঋতব্রত বলেন, “এটি কোনও রিয়েলিটি শো বা ক্যাটওয়াকের মঞ্চ নয়। যাঁরা প্রতিদিন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেন, তাঁদেরই প্রকৃত সম্মান দেওয়া উচিত।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২১ জুলাইয়ের ঘটনার কমিশনের রিপোর্ট কেন এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাঁর দাবি, গুলি চালানোর কারণ এবং তদন্তের পূর্ণ সত্য মানুষের সামনে তুলে ধরা উচিত।
দলের আর্থিক তহবিল নিয়েও সরব হন ঋতব্রত। তাঁর অভিযোগ, দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলের তহবিলের সুদ ও ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করে একটি শ্বেতপত্র আনা হোক। একইসঙ্গে ঘোষণা করেন, সেই অর্থের ব্যবস্থা হলে ২১ জুলাইয়ের প্রত্যেক শহিদ পরিবারের হাতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতি তিন মাস অন্তর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। বক্তব্যের শেষদিকে ঋতব্রত অভিযোগ করেন, অতীতে সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছিল এবং সেই কারণেই কিছু সাংসদ ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।