হাবিবুর রহমান, ঢাকা: হতবাক বাংলাদেশের মানুষ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও ৮ আগস্ট ডঃ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পাকিস্তানের দহরম শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই পেছনের সারিতে সরে যেতে হয় বিপদের দিনের বন্ধু ভারতকে। শুধু সরে যাওয়াই নয়, ইউনূস সরকার ভারতকে নানাভাবে দোষারোপ করতে উঠেপড়ে লাগে। অভিযোগ তোলা হয় ভারত কেন শেখ হাসিনাকে সেদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। চালু হয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যসহ বিমান যাতায়াত।
কিন্তু ওই দোস্তির প্রতি মূল্য না দিয়ে হাত গুটিয়ে নিল পাকিস্তান । সব প্রস্তুতি থাকার পরও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের একটি চালান দেশে আসতে পারেনি। ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি আসার কথা ছিল। তবে বলা হচ্ছে নতুন সূচি অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউরেনিয়াম আনা শুরু হতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানের ছাড়পত্র না পাওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইটটি আসতে পারেনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চালানটি আনার সময়সূচি দিয়েছে। ইউরেনিয়াম নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে দেওয়া রাশিয়ার দায়িত্ব। কিছুটা সময় এদিক-সেদিক হতে পারে বলেও জানান তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটে এক বছর পর রিফুয়েলিংয়ের জন্য ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি দুইটি ফ্লাইটে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১ অক্টোবর আসার কথা ছিল। প্রথম ফ্লাইটটি স্থগিত হওয়ায় এখন ১ অক্টোবর থেকে চালান আসার নতুন সূচি দেওয়া হয়েছে।
একই সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথমবারের জ্বালানি আনার জন্য ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনার সূচি রয়েছে। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ২০২৩ সালে যেভাবে কয়েকটি চালানে আনা হয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রেও একইভাবে পুরো জ্বালানি আনা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পরিবহনের নির্ধারিত রুটে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা পড়ে। চালান গ্রহণ ও রূপপুরে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রসাটম থেকে জানানো হয়, রুটের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
এদিকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গে সোমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি ছিল হাইকমিশনারের সঙ্গে তাঁর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
