রাজ্যে হাজার, হাজার পড়ুয়ার চোখে রয়েছে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। ছেলেবেলা থেকেই তাই অনেকেই কঠোর পরিশ্রম করেন নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছায়। কিন্তু আসন সংখ্যার সীমাবদ্ধতা সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে আরও ৬০০টি এমবিবিএস আসন বৃদ্ধির দাবি তুলে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, রাজ্যের অন্তত আটটি মেডিক্যাল কলেজে বিদ্যমান পরিকাঠামোর আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে সহজেই অতিরিক্ত ৬০০টি আসন তৈরি করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার ৩২৫-টি এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আরো বড় সুযোগ তৈরি হবে আসা করা যাচ্ছে।
কলকাতার নামি মেডিক্যাল কলেজ যেমন, এনআরএস ও আরজি করের মতো প্রতিষ্ঠানে বছরে ২৫০ জন পর্যন্ত পড়ুয়ার সুযোগ থাকলেও অন্যান্য মেডিকেল কলেজ তাদের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নত করা গেলে এই কলেজ গুলিতেও শত শত নতুন আসন তৈরি হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ‘সেন্ট্রালি স্পনসরড স্কিম ফেজ-থ্রি’-এর আওতায় প্রতিটি নতুন এমবিবিএস আসনের জন্য সর্বাধিক দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করা যাবে। সেই হিসেবে ৬০০টি আসনের জন্য মোট ব্যয় হবে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৪০ কোটি টাকা বহন করতে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যকে দিতে হবে বাকি ৩৬০ কোটি টাকা।
এই উদ্যোগ শুধুমাত্র আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়নি মেডিকেল কলেজ গুলির শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, অধ্যাপক নিয়োগ, ছাত্রাবাস ও গবেষণাগারের আধুনিকীকরণের উপরও জোর দেওয়ার কথা বলেন শমীক ভট্টাচার্য। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একাধারে ৬০০ পড়ুয়া ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পাবে একযোগে। পাশাপাশি জেলা সরকারি হাসপাতাল গুলিতে চিকিৎসকের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে ২০১৮-২৯ অর্থ বর্ষের মধ্যেই রাজ্যকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে শমীক ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে। আগামী দিনে ডাক্তারি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ-কে আরো উজ্জ্বল করে তুলতে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে।




