কলকাতা: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কামারডাঙায় তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। আনন্দপালিত রোডের কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটি এবারের পুজোয় সিপিএম, ডিওয়াইএফআই, এসইউসিআই-সহ বামপন্থী সংগঠনগুলিকে বুকস্টল বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে একটি ব্যানারও টাঙানো হয়েছে এলাকায়।
চলতি বছরে কামারডাঙা দুর্গোৎসব কমিটির পুজো ১০৭ বছরে পড়ছে। পুজোর থিম হিসেবে রাখা হয়েছে ‘সনাতন হিন্দু রাষ্ট্র’। পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি বামপন্থী সংগঠনগুলির স্টল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিটির তরফে প্রকাশিত ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘CPIM/DYFI/SUCI সহ সকল বামপন্থী সংগঠন দ্বারা নির্মিত স্টল বসতে দেওয়া হবে না।’ অর্থাৎ এই সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে পুজো প্রাঙ্গণে কোনও বুকস্টল বা প্রচারমূলক স্টল বসানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
পুজো উদ্যোক্তা সুরজ কুমার সিং এই সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সেই কারণে বামপন্থী সংগঠনগুলিকে পুজো প্রাঙ্গণে স্টল করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, তাঁরা বামপন্থীদের উপর বিশ্বাস রাখেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজো কমিটি ধর্মীয় আয়োজন হিসেবেই অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে অবশ্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে বাম শিবির থেকেও। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র প্রচারের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য সামনে আনা হচ্ছে। ওই পুজো কমিটি বা সেখানে নিয়মিত বুকস্টল বসে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান।
সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, এই ধরনের প্রচারের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে বেশি অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। যদিও এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং এর সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে দেননি।
এদিকে পুজো কমিটির সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই স্থানীয় স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্গাপুজোর মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনের স্টল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
কামারডাঙার এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রাজ্যে দুর্গাপুজোকে ঘিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পুজো কমিটি এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলির অংশগ্রহণ নিয়ে একাধিক বিতর্ক চলছে। তবে এবারের পুজোয় বামেদের বুকস্টল আদৌ বসবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কমিটির সিদ্ধান্তই কার্যকর রয়েছে। পুজোর প্রস্তুতি যত এগোবে, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের।
