কয়েক দিন আগেই সমাজ মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘হয়তো আমি দলে ফিট করি না, কিন্তু নিজের সবটুকু দিয়ে লড়ব।’’ তখনও জানা ছিল না, সেই লড়াই এত তাড়াতাড়ি ফল দেবে। সাই সুদর্শনের চোটই খুলে দিয়েছে দরজা। আগামী ১৫ অগাস্ট থেকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শুরু হতে চলা দুই টেস্টের সিরিজের দলে ডাক পেয়েছেন সরফরাজ খান। দু’বছর পর জাতীয় টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন মুম্বইয়ের এই ব্যাটারের। আর এই প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে নিজেকে আমূল বদলে ফেলার এক কঠিন অধ্যায়। গত দেড় বছরে অমানুষিক পরিশ্রমে প্রায় ১৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন সরফরাজ।
এক সময় তাঁর ফিটনেস এবং শারীরিক গড়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠত। অথচ রঞ্জি ট্রফিতে তিনশোর বেশি রানের ইনিংস খেলা সরফরাজকে ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার ইনিংসে ব্যর্থতার পর দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল। সেই সিরিজে ভারতীয় দলের প্রায় সকলেই ব্যর্থ হলেও কোপ পড়েছিল সরফরাজের উপরই।
তার পর ইংল্যান্ডে ভারত ‘এ’-র হয়ে ৯২ রান করার পাশাপাশি বেকেনহ্যামে ভারত বনাম ভারত ‘এ’-র প্রস্তুতি ম্যাচে শতরানও করেন। তবু খুলছিল না জাতীয় দলের দরজা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ভারতের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অবশ্য সরফরাজকে নিয়ে ফের ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। এমনকি গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্টের আগে তাঁর ব্যাপারে খোঁজও নেওয়া হয়েছিল বলে খবর।
তবে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকেননি সরফরাজ। মুম্বইয়ের বর্ষায় নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হওয়ায় চলে গিয়েছিলেন কাশ্মীরে। শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে নেট বোলার এবং রাজ্য দলের কয়েক জন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করেছেন। এ ছাড়া মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের ইনডোরে অ্যাস্ট্রো টার্ফেও দক্ষতা বাড়ানোর কাজ করেছেন।
এমনকি কুরলার আশপাশে ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় লাল মাটির অনুন্নত ও ব্যবহৃত পিচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাট করে স্পিনের বিরুদ্ধে নিজেকে তৈরি করেছেন। আইপিএলের পর মুম্বই টি-টোয়েন্টি লিগেও ঝড় তুলেছিলেন তিনি। সেই পরিশ্রমেরই ফল হল আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিপছিপে শরীর, উন্নত টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং এবং স্পিন খেলার আরও ধারালো দক্ষতা।
শ্রীলঙ্কার পরিবেশে সরফরাজের প্রত্যাবর্তন তাই তাৎপর্যপূর্ণ। স্পিন খেলার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে শুভমান গিল এবং ঋষভ পন্থের পর তাঁকেই অন্যতম সেরা বলে মনে করা হচ্ছে। ধ্রুব জুরেলের স্পিনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দুর্বলতাও সরফরাজের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় ইন্ডিয়া-এ দলের অধিনায়ক হয়ে জুরেল একটি শতরান ও একটি অর্ধশতরান করলেও সদ্য শেষ হওয়া প্রস্তুতি ম্যাচে অফস্পিনারের বলে দ্রুত আউট হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন হার্মারও তাঁকে চার ইনিংসে তিন বার আউট করেছিলেন। সেখানে সরফরাজের অস্ত্রের ভাণ্ডারে রয়েছে প্রচলিত সুইপের পাশাপাশি রিভার্স সুইপও। ফলে গলে স্বাধীনতা দিবস থেকে শুরু হতে চলা প্রথম টেস্টে তাঁর সামনে সুযোগ একেবারে তৈরি বলেই মনে করা হচ্ছে। এ বার ‘ফিট’ হয়ে যাওয়া সরফরাজকে শুধু লড়াইটা জিততে হবে।