ভারতের জনগণনা প্রক্রিয়ায় এবার বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনার সূচনা করছে কেন্দ্র সরকার। এর অংশ হিসেবে চালু হচ্ছে স্ব-শুমারি (Self Enumeration) ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেরাই অনলাইনে নিজেদের পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন। আগামী ১ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত এই স্ব-নিবন্ধীকরণের প্রথম পর্ব চলবে। এই সময়ের মধ্যে ইচ্ছুক নাগরিকেরা জনগণনার নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন।
স্ব-শুমারির জন্য নাগরিকদের জনগণনার সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে প্রথমে নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নির্বাচন করতে হবে। এরপর ক্যাপচা পূরণ করে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার সুযোগ থাকবে, যদিও এই অংশটি ঐচ্ছিক। এরপর নিজের পছন্দের ভাষা নির্বাচন করলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে। সেই ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে।
পরবর্তী ধাপে জেলার নাম, পিন কোড, গ্রাম বা শহরের নাম এবং এলাকার তথ্য দিতে হবে। এরপর মানচিত্রে নিজের বাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করার সুযোগ থাকবে। তারপর বাড়ির ধরন, পরিবারের মৌলিক তথ্য এবং হাউসলিস্টিং সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করতে হবে। সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার আগে একটি প্রিভিউ স্ক্রিনে তা যাচাই করার সুযোগ মিলবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে ‘ফাইনাল সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
নিবন্ধন সম্পূর্ণ হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর বা ইমেলে একটি ১১ সংখ্যার বিশেষ ‘এসই আইডি’ (SE ID) পাঠানো হবে। পরবর্তীতে জনগণনার কাজে নিযুক্ত সরকারি আধিকারিক বাড়িতে এলে এই আইডি দেখাতে হবে। আধিকারিক তথ্য যাচাই করে তা সরকারি সার্ভারে আপলোড করবেন।
এবারের জনগণনা দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ১৬ অগাস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ চলবে। এই সময় বাড়ির অবস্থা, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি টেলিভিশন, কম্পিউটার, রেডিয়ো, দুই ও চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
এরপর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্ব। সেই পর্যায়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি, ধর্ম-সহ বিভিন্ন জনতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার হিসাব তৈরি করা হবে।
প্রশাসনের দাবি, ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অংশগ্রহণও বাড়বে, কারণ এবার তাঁরা নিজেরাই ঘরে বসে প্রাথমিক তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।