হাজারো ব্যস্ততার মধ্যে কাজে যাওয়ার তাড়া। হুগলি স্টেশন চত্বরে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি। এরই মাঝে এক বীভৎস দৃশ্য হাড় হিম করে দিল যাত্রীদের। রেল লাইনের উপর পড়ে এক ব্যক্তির দ্বিখণ্ডিত দেহ। মুহূর্তের মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্টেশন জুড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা।
মৃত ব্যক্তির নাম কমল সেনাপতি। বয়স আনুমানিক ৫৩ বছর। তিনি রেলের পাবলিক ওয়ার্কস ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সকালে নিজের বাড়ি থেকে চন্দননগরের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের জায়গায় পৌঁছানোর আগেই হুগলি স্টেশনের আপ লাইনে ট্রেনে কাটা পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় তার দেহ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ব্যান্ডেল জিআরপি। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৃত ব্যক্তির চন্দননগর যাওয়ার কথা থাকলেও তার দেহ উদ্ধার হয়েছে ব্যান্ডেলের দিকে আপ লাইনে। কিভাবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তৈরি হয়েছে নানান জল্পনা।
তার সহকর্মীদের অভিযোগ, কমন সেনাপতি দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। অতিরিক্ত কাজের চাপ , কর্মী সংকট, পর্যাপ্ত ছুটি না পাওয়া সবকিছু নিয়েই অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে সাসপেনশনের হুমকির মুখে পড়তে হয়। সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
রেলের মেনস ইউনিয়নের অভিযোগ, শুধু কমল নন, বহু রেলকর্মীকেই অস্বাভাবিক ভাবে কাজের চাপে সহ্য করতে হচ্ছে। বিষয়টি ডিআরএম-কে জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউনিয়ন।
এই ঘটনাকে ঘিরে সমস্ত জায়গাতেই নানান প্রশ্ন উঠছে। এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো ঘটনা সব দিক খতিয়ে দেখছে ব্যান্ডেল জিআরপি। শুরু হয়েছে তদন্ত।