কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: রাজনীতির সংকীর্ণতা এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের মেধা ও সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের ‘ব্রেন ড্রেন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
শমীক বলেন, রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ এবং রাজনীতির সংকীর্ণ পরিসরের বাইরে চিন্তা করতে না পারার প্রবণতা রাজ্যকে বড় ক্ষতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, একসময় পশ্চিমবঙ্গ ও অবিভক্ত বাংলা দেশের নানা ক্ষেত্রে পথ দেখালেও বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আবর্তে রাজ্য ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে।
বাঙালির মেধা ও প্রতিভার উদাহরণ তুলে ধরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদেশের মাটিতেও বাঙালিরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। তাঁর দাবি, তিন বছর আগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেঙ্গালুরুতেই প্রায় ১৪ লক্ষ ৬০ হাজার বাঙালি তরুণ-তরুণী কর্মরত। ফলে সেখানে বাংলা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কথ্য ভাষা হয়ে উঠেছে। আমেরিকার সিলিকন ভ্যালি, নিউ জার্সি, সান ফ্রান্সিসকো, ম্যানহাটন থেকে শুরু করে নাসা ও ইসরোর মতো প্রতিষ্ঠানেও বাঙালিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এই মেধাবী প্রজন্মের একটি বড় অংশ কেন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শমীক। তাঁর মতে, রাজ্যে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও কাজের পরিবেশ তৈরি না হওয়াই এর অন্যতম কারণ।
জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শমীক বলেন, “আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা ভারতীয়, তারপর আমরা বাঙালি, মারাঠি বা গুজরাতি।” একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হচ্ছে বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের ১০০ দিনের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি সভাপতি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসানের পর নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাঁর দাবি, দলীয় প্রতীকে সরকার তৈরি হলেও প্রশাসনকে নির্দিষ্ট দলের পরিবর্তে প্রকৃত অর্থে ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার’ হিসেবে পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সবশেষে গণতন্ত্রে বিরোধিতার অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে শমীক বলেন, সুস্থ গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত হল ‘রাইট টু ডিসেন্ট’। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।