নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল পদে আরও ছ’মাস থাকছেন আইপিএস সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। আসন্ন ৩১ অক্টোবর তাঁর দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিক তার আগেই দিল্লির সবুজ সংকেত মিলল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ক্যাবিনেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে সিলমোহর দিয়েছে। ফলে আগামী বছর এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের প্রধানের ব্যাটন থাকছে ১৯৯২ ব্যাচের এই পোড়খাওয়া অফিসারের হাতেই।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ডিজির মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে দিল্লির কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছিল নবান্ন। সেই প্রস্তাবেই সায় দিল কেন্দ্র। এ নিয়ে টানা দু’দফায় কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধি পেল তাঁর।
ঘটনামোড় শুরু হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে। হিসাবমতো চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিনাথ গুপ্তার স্বাভাবিক অবসর নেওয়ার কথা ছিল। তবে তখন রাজ্যে চলছিল বিধানসভা নির্বাচন। স্পর্শকাতর ভোটপর্বে অভিজ্ঞ এই অফিসারের হাতেই ভরসা রেখেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের ঠিক আগে তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারকে পদ থেকে সরানো হলে সাময়িক সময়ের জন্য পীযূষ পাণ্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ডিজি পদে নিয়ে আসা হয় সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। ভোটের মতো স্পর্শকাতর আবহে আইনশৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে সঁপে দিয়ে প্রথম দফায় ছ’মাসের জন্য কার্যকালের মেয়াদ বাড়িয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
সেই বর্ধিত মেয়াদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার মুখে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল,তবে কি নতুন কাউকে রাজ্য পুলিশের প্রধান করা হবে, নাকি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার ওপরেই আস্থা রাখা হবে?
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের পর কাটল সমস্ত ধোঁয়াশা। ভোট মিটে যাওয়ার পরও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি। বিভিন্ন প্রশাসনিক সমন্বয়ে তাঁর পারদর্শিতার কারণেই রাজ্য ও কেন্দ্র উভয় তরফেই এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে আপাতত কোনও বড়সড় রদবদল ঘটছে না। উৎসবের মরসুমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয়, সেই দিকটি নিশ্চিত করতেই অভিজ্ঞ ডিজির উপর আবারও ভরসা রাখল প্রশাসন। ফলে আপাতত স্থায়ী ডিজি পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।