নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির স্মৃতিকে সামনে রেখে নতুন উদ্যোগ। আগামী ২২ নভেম্বর কলকাতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চলেছে সীতারাম ইয়েচুরি ফাউন্ডেশন (SYF)। অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ‘Imperialism Today’ বা ‘আজকের সাম্রাজ্যবাদ’। দেশের ছাত্রছাত্রীদের আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাম্রাজ্যবাদের সমসাময়িক প্রভাব নিয়ে গবেষণা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম আকর্ষণ।
কলকাতার ইস্ট জোন কালচারাল সেন্টারে দিনভর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়াদের কাছে প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘Imperialism in the Present Age’ অর্থাৎ ‘বর্তমান যুগে সাম্রাজ্যবাদ’ বিষয়ের উপর ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ৬০০ শব্দের মধ্যে এই সারসংক্ষেপ লিখতে হবে। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর।
ফাউন্ডেশনের গঠিত একটি নির্বাচনী কমিটি জমা পড়া প্রস্তাবগুলির মধ্যে থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে আটটি লেখা বেছে নেবে। নির্বাচিত পড়ুয়াদের এরপর তাঁদের প্রস্তাবিত বিষয়ের উপর ৩,০০০ শব্দের পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ তৈরি করতে হবে। ২২ নভেম্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেই প্রবন্ধগুলি উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন তাঁরা। শুধু অনুষ্ঠানে উপস্থাপনই নয়, নির্বাচিত আটটি প্রবন্ধ একত্র করে বই আকারে প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে ফাউন্ডেশনের।
প্রয়াত সীতারাম ইয়েচুরির স্মৃতিতে গঠিত এই অলাভজনক ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়ক। ফাউন্ডেশনের সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন সাংবাদিক সীমা চিশতি, যিনি ইয়েচুরির স্ত্রী। ট্রাস্টের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, চেন্নাইয়ের এশিয়ান কলেজ অব জার্নালিজমের চেয়ারম্যান শশী কুমার এবং অর্থনীতিবিদ সি পি চন্দ্রশেখর।
১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণকারী সীতারাম ইয়েচুরি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজনৈতিক স্মরণসভা ছাড়াও গবেষণা, আলোচনা ও বৌদ্ধিক চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
২২ নভেম্বরের এই অনুষ্ঠান তাই শুধুমাত্র একটি উদ্বোধনী কর্মসূচি নয়; বরং সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও গবেষণাকে সামনে আনার একটি মঞ্চ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।