দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করলেন। বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং লে লাদাখ অ্যাপেক্স বডির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জল পান করে অনশন ভাঙেন তিনি। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলিও। হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নাড্ডা তাঁর হাতে জলের গ্লাস তুলে দিচ্ছেন, আর জিতেন্দ্র সিং তাঁকে উঠে বসতে সাহায্য করছেন।
নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ওয়াংচুক এই অনশন শুরু করেছিলেন। যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে যায় বলে জানা গিয়েছে।
অনশন প্রত্যাহারের পর এক্স-এ দেওয়া বার্তায় ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৬৫ জন সাংসদ হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে অনশন শেষ করার অনুরোধ করেছিলেন। দীর্ঘ আলোচনা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
নিজের বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন, আন্দোলনের জেরে কোথাও যাতে হিংসার পরিবেশ তৈরি না হয়, সেটাই তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্বেগ ছিল। তাই সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে ওয়াংচুকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে পড়ুয়াদের আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হয়। সংসদ অভিযান-সহ একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয়। এরই মধ্যে প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর আইন আনা এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেয় কেন্দ্র। সেই প্রেক্ষিতেই ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।