নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে গরু চুরির তদন্তে নেমে অভিনব পাচার কৌশলের হদিস পাওয়ার দাবি পুলিশের। বাইরে থেকে দেখতে একেবারে সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি। কিন্তু সেই গাড়ির পিছনের সিট খুলে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ গোপন জায়গা। তদন্তকারীদের দাবি, সেই জায়গাতেই চুরি করা গরু তুলে এক এলাকা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হত। ঘটনায় আজগার ফকির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মগরাহাট এলাকার বাসিন্দা আজগার ফকিরকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সক্রিয় একটি গরু চুরি ও পাচার চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটি প্রথমে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করত। এরপর সেগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত ইনোভা বা জাইলোর মতো সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি।
গাড়ির পিছনের সিট খুলে তৈরি করা হত এমন একটি জায়গা, যা বাইরে থেকে সহজে বোঝার উপায় থাকত না। পুলিশের দাবি, সেই গোপন জায়গাতেই গরু তুলে নিয়ে যাওয়া হত। ফলে রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সময় বাইরে থেকে সেটিকে অন্য সাধারণ গাড়ির মতোই মনে হত।
সোনারপুরে গরু চুরির একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই এই কৌশলের বিষয়ে পুলিশের হাতে তথ্য আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপর বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই তদন্তেই আজগার ফকিরের নাম উঠে আসে। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, আজগারের বিরুদ্ধে শুধু স্থানীয়ভাবে গরু চুরি ও পাচারের অভিযোগই নয়, অতীতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গরু পাচারের সঙ্গেও যুক্ত থাকার সন্দেহ রয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত দিয়ে পাচারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠার পর চক্রটি তাদের কৌশল বদলে স্থানীয় রুটে গরু সরানোর দিকে ঝুঁকে থাকতে পারে। তবে এই দাবিগুলির পূর্ণ সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
আজগরকে গ্রেফতারের পর এখন চক্রের বাকি সদস্যদের সন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে, কোন কোন এলাকায় গরু চুরি করা হত, কারা সরাসরি চুরির কাজে যুক্ত ছিল, চুরি করা গরুগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়া হত এবং পাচারের জন্য মোট কতগুলি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশের অনুমান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে। শুধু একজনকে গ্রেফতার করে তদন্ত থামাতে চাইছে না সোনারপুর থানার পুলিশ। গোটা নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাই এখন তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য।
অভিনব গাড়ি ব্যবহারের এই অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের পরিধিও বাড়তে পারে। কোন রুটে গাড়িগুলি চলত, কোথায় গরু সংগ্রহ করা হত এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলি কোথায় পৌঁছত, এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখন গ্রেফতার হওয়া আজগার ফকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের আরও কোনও সদস্যের সন্ধান মেলে কি না, সেটাই দেখার। পাশাপাশি পুলিশের দাবি করা পাচার-নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।
