বিধানসভার বাদল অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেও স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়ালেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আগের দিনের গোলমালের রেশ ধরে অধিবেশন কক্ষ আবারও হয়ে উঠল উত্তপ্ত।অধিবেশনের শুরুতেই তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বুধবারের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে চাইলে স্পিকার রথীন্দ্র বোস তা থামিয়ে দেন। স্পিকার মন্তব্য করেন, "যা ঘটেছে তা কলঙ্কজনক। আজ তা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না।"
স্পিকারের এই 'কলঙ্কজনক' মন্তব্যেই তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল বিধায়কেরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে সরাসরি স্পিকারের আসোনের দিকে এগিয়ে যান কুণাল ঘোষ। স্পিকারের মন্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বিধানসভায় ওয়াকআউট, বাদানুবাদ বা মার্শাল ডাকার ঘটনা নতুন নয়। তবে গতকালের ঘটনাকে 'কলঙ্কজনক' কেন বলা হলো?" স্পিকার তাঁকে নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও কুণাল নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আবারও মার্শাল ডাকা হলেও, এবার অবশ্য তাঁকে বের করে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি আসনে ফেরেন।
অধিবেশন চলাকালে বিরোধী দল বিজেপির বিধায়কদের সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়ান শাসকদলের বিধায়কেরা। বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গে কুণাল ঘোষের তুমুল বচসা হয়। সূত্রের খবর, কুণাল ঘোষ তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁকে কথা বলতে না দেওয়া হলে তিনিও অন্য কাউকে বলতে দেবেন না।অধিবেশন শেষে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা মানুষের স্বার্থে কথা না বলে নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করতে বিজেপির হয়ে দালালি করছে।
তিনি বলেন, "বিজেপি চায় না আমি বলি বা কোনও শক্তিশালী কণ্ঠ উঠুক। দলের পক্ষ থেকে নাম দেওয়া সত্ত্বেও একজন বিধায়ক হিসেবে আমাকে বলতে দিতে হবে।" এর পাশাপাশি স্পিকার প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, "রথীনবাবু অত্যন্ত ভদ্রলোক, কিন্তু বর্তমানে বিধানসভায় যা ঘটছে তা ওঁর জন্য কলঙ্ক হয়ে থাকবে। তিনি দু'মাসও সঠিকভাবে সভা পরিচালনা করতে পারছেন না।"