দেশের শেয়ার বাজারে বৃহস্পতিবার দিনের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স প্রায় ১৭০ পয়েন্ট এগিয়ে সবুজ সংকেত দেয়। তবে সেই ইতিবাচক আবহের মাঝেও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি বারবার ওঠানামা করতে থাকে। ফলে বাজারে একদিকে যেমন ক্রেতাদের সক্রিয়তা দেখা যায়, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের একাংশ সতর্ক অবস্থান বজায় রাখেন।
দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্পেশালিটি কেমিক্যাল খাত। Neuland Laboratories এবং Navin Fluorine-এর শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে। সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী কেনাকাটার জেরে এই উত্থান বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু এই দুই সংস্থাই নয়, স্বাস্থ্যসেবা ও কেমিক্যাল সেক্টরের একাধিক শেয়ারেও ক্রেতাদের আগ্রহ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা খাতের কিছু বড় শেয়ারে মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা যায়। সেই কারণেই নিফটি দিনের বিভিন্ন সময়ে কখনও ঊর্ধ্বমুখী, কখনও নিম্নমুখী হয়েছে। তবে বাজারের সামগ্রিক ছবিতে আতঙ্কের ছাপ ছিল না। বরং মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারেও ভালো কেনাকাটা হওয়ায় বাজারের ভিত যে এখনও মজবুত, সেই ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বাজারের মূল নজর রয়েছে কর্পোরেট ফলাফল, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর। আগামী কয়েক দিনে একাধিক বড় সংস্থার আর্থিক ফল প্রকাশিত হবে। সেই ফলাফলই বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে।
এছাড়াও মার্কিন সুদের হার, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দাম এবং বিশ্ববাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিও ভারতীয় শেয়ার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বল্পমেয়াদি ওঠানামাকে গুরুত্ব না দিয়ে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনায় মৌলিকভাবে শক্তিশালী সংস্থার শেয়ার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবারের বাজারে আশাবাদ ও সতর্কতার এক মিশ্র ছবি ধরা পড়েছে। সেনসেক্স ইতিবাচক বার্তা দিলেও নিফটির ওঠানামা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাজার এখনও দোলাচলের মধ্যেই রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকটি ট্রেডিং সেশন বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।