খেলা নয়, সংগ্রাম।বল নয়, হাতিয়ার। কথাটা বুঝতে পেরেছিল সেইসব তরুণ মুখ। পরাধীন দেশে তখন একের পর বিপ্লব ঘটে চলেছে। সেই আগুন সময়ে এগারোটা ছেলেও স্থির থাকতে পারেনি। লালমুখো সাহেবদের চোখে চোখ রেখে লড়ে গেছিল সবুজ ঘাসের রণাঙ্গনে। ওদের একজন বাদে বাকি সবাই খালি পা।তাতে কী! লড়াই তো থেমে থাকবে না। জায়গাটা উত্তর কলকাতার ফুটিংস স্ট্রিট। বাড়ির নাম মোহনবাগান ভিলা। মালিকের নাম কীর্তি মিত্র। সালটা ১৮৮৯।জন্ম হয়েছিল একটা ক্লাবের। ক্লাবের সভাপতি ছিলেন ভূপেন্দ্রনাথ বসু।
ছেলেগুলোর এই আগুনে মন স্পর্শ করল ভূপেন্দ্রনাথ বসুকে। এক ছাতা?নলেন রেভারেন্ড সুধীর চট্টোপাধ্যায়কে। উপস্থিত হলেন শ্রীশচন্দ্র সরকার ওরফে হাবুল।জুটে গেলেন ভুতি সুকুল,মনমোহন মুখার্জী,রাজেন সেনগুপ্ত,নীলমাধব ভট্টাচার্য,কানুলাল রায়। যোগ দিলেন অভিলাষ ঘোষ। বাকিটা... ইতিহাস!জোরকদমে চলতে লাগল অনুশীলন। ভাঙাচোরা মাঠে দৌড়, গঙ্গায় ভাটার সময় সাঁতার কাটা,ডন-বৈঠক,মুগুর ভাঁজা! লক্ষ্য আইএফএ শিল্ড জয়।
খেলার যুদ্ধভূমিতে নেমে পড়ল এগারোটা তাজা বোমা! একের পর এক ম্যাচ জিতে ফাইনাল খেলা। বিরুদ্ধে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্ট। গোরা পল্টন দলের মুখোমুখি মাছ-ভাত খাওয়া বাঙালি সন্তান। এদের কেউ সওদাগরি আপিস ছেড়ে,কেউ পৌরসভার কাজকর্ম ছেড়ে,কেউ স্কুল-কলেজ পালিয়ে লড়তে এসেছিল। খেলার চরম মুহূর্তে গোল করে দলকে জেতালেন অভিলাষ ঘোষ। ইতিহাস তৈরি হল!
'এগারো' সিনেমা যারা দেখেছেন তারা জানেন শেষ দৃশ্যে হেমদাকান্ত-র প্রশ্ন--''এটা তো জিতলে, কিন্ত ওই পতাকাটা কবে নামবে বলতে পারো?" এর উত্তর ভারত পেয়েছিল ৩৬বছর পরে। নেপথ্যে ছিল ১৯১১-র ২৯শে জুলাই।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সাহসীরাই 'ম্যাচ' জেতে! সেদিনও হয়েছিল, ৩৬বছর পরেও হয়েছিল। জেগেছিল আপামর ভারতবাসী।