নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশকাণ্ডে CJP-র আন্দোলন ঠেকাতে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। বন্ধ হয় ইন্টারনেট। জারি করা হয়েছিল ১৬৩ ধারা। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা দিল্লিকে। মোতায়েন করা হয়েছে ২৩ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী ও আধাসামরিক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এবার দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একাধিক বিধিনিষেধ ও ধরপাকড়ের অভিযোগের মধ্যে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের আশপাশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি সংক্রান্ত নোটিসও অবিলম্বে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। শুনানিতে আদালত জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রয়োজনে যান চলাচল ও মানুষের জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে তার জন্য সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার খর্ব করা চলবে না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যে ব্যারিকেড একান্ত প্রয়োজনীয় নয়, সেগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে।
মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ ওঠে। সেই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত। দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর আদালতের নির্দেশের পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা জানিয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে নাগরিকদের। তবে সেই প্রতিবাদও আইন মেনে করতে হবে। একইসঙ্গে বিক্ষোভের নামে বা তা নিয়ন্ত্রণ করার অজুহাতে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। সাংবাদিক ও আইনজীবীদের পেশাগত কাজের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করা উচিত নয়।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ব্যারিকেড, পুলিশি নজরদারি এবং জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের কারণে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষকে আটক করার দাবিও করেছে সিজেপি। শনিবারের পর রবিবারও কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সিজেপি নেতৃত্বের ঘোষণা, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আটক নেতাদের মুক্তি, বিক্ষোভের অনুমতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে দিল্লিতে আন্দোলন কোন দিকে এগোয়, তা স্পষ্ট হবে দিনের কর্মসূচির পর।
