ধর্ষণের চেষ্টার সংজ্ঞা নিয়ে পাটনা হাইকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, কোনও মহিলার সালোয়ার খুলতে চেষ্টা করা এবং তাঁর বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ নয়। এই পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রায় দেওয়ার আগে যথাযথ গবেষণা ও আইনি বিশ্লেষণের অভাব স্পষ্ট এবং এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চের সামনে ১৫ জুলাই বিষয়টি উত্থাপন করেন সিনিয়র আইনজীবী শোভা গুপ্তা। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রায়ে পর্যাপ্ত আইনি গবেষণার অভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, পাটনা হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বিস্তারিত আদেশ দেবে।
একইসঙ্গে যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচারিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির বিশেষজ্ঞ কমিটির তৈরি নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই নির্দেশিকা সুপ্রিম কোর্ট, বিভিন্ন হাইকোর্ট ও জেলা আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও রাজ্য বিচার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, জাতীয় আইন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগেও পাঠানো হবে।
শুধু বিচারব্যবস্থাই নয়, দেশের সমস্ত রাজ্যের ডিরেক্টর অব প্রসিকিউশন এবং ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশকেও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এফআইআর নথিভুক্ত করা কিংবা চার্জশিট দাখিলের সময় সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা অনুসরণ করতে সব থানাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শুনানির সময় সিনিয়র আইনজীবী শোভা গুপ্তা জানান, পাটনা হাইকোর্টের এই রায়ের পাশাপাশি এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত রায়ও সুপ্রিম কোর্টের নজরে এসেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, নাবালিকার স্তন চেপে ধরা, পাজামার দড়ি ছিঁড়ে ফেলা এবং জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ নয়; বরং তা পকসো আইনের আওতায় ‘অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট’-এর মধ্যে পড়ে, যার শাস্তি তুলনামূলকভাবে কম।
প্রসঙ্গত, পাটনা হাইকোর্টের মামলাটি ২০০৮ সালের একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগ, এক তরুণী তাঁর বাবার সঙ্গে অমরপুরের একটি ফটো স্টুডিওতে গেলে স্টুডিওর মালিক দরজা বন্ধ করে তাঁকে যৌন নিগ্রহের চেষ্টা করে। তরুণীর সালোয়ার খুলতে এবং বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ ওঠে। মেয়ের চিৎকার শুনে তাঁর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং বেআইনি আটকে রাখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন জানালে বিচারপতি পূর্ণেন্দু সিং পর্যবেক্ষণ করেন, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ নয়, বরং ‘মহিলার শ্লীলতাহানি’-র অপরাধের মধ্যে পড়ে।