নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল সুপ্রিম কোর্টে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া একটি মামলা শুনতে রাজি হয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
মামলাটির কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের decision-making process। আবেদনকারীদের বক্তব্য, কমিশন একটি বহু সদস্যের প্রতিষ্ঠান। ফলে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়; কমিশনের সদস্যদের মতামত এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিংয়ের বক্তব্যও এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন একটি multi-member body এবং তার সিদ্ধান্ত যৌথভাবে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
মামলায় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারার প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে যে সাংবিধানিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা। কোনও একজন কমিশনার সেই ক্ষমতা এককভাবে প্রয়োগ করতে পারেন কি না, সেটিই এখন আদালতের সামনে অন্যতম প্রশ্ন।
বিশেষ করে Special Intensive Revision বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে পৃথক একটি মামলাতেও অভিযোগ উঠেছিল, SIR সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত ও software modification-এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
তবে এই অভিযোগগুলির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন জানিয়েছে, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আবেদনকারীদের অভিযোগ এবং কমিশনের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। একটি আবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাতিলের পাশাপাশি তদন্তের দাবিও করা হয়েছে। অন্য একটি আবেদনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তবে আদালত এখনও এই অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলা গ্রহণ করে শুনানি করা মানেই আবেদনকারীর অভিযোগ আদালত মেনে নিয়েছে, এমন নয়। আগামী সপ্তাহের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কোন প্রশ্নগুলি বিবেচনায় নেয় এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর।
SIR থেকে শুরু করে কমিশনের অভ্যন্তরীণ decision-making একাধিক বিতর্কের মধ্যে এই মামলা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কাঠামো ও ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে আনতে চলেছে।
