ভারতীয় ক্রিকেটে চোট-আঘাতের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, চোটেগ্রস্ত ক্রিকেটারদের নিয়েই একটি গোটা একাদশ তৈরি করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ভয়াবহ চোটের ধাক্কা ভারতীয় দলে দেখা যায়নি। বিরাট কোহলি অধিনায়ক থাকার সময়ে ফিটনেসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া থেকে যে ভারতীয় ক্রিকেট অনেকটাই এগিয়ে এসেছিল, সেই ব্যবস্থাপনাতেই এ বার প্রশ্ন উঠছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্সে ক্রিকেট (সিওই) বিভাগের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। সূত্রের খবর, চোট সারানোর প্রক্রিয়া এবং রিহ্যাব ব্যবস্থাপনা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে।
চোটের তালিকায় রয়েছেন জশপ্রীত বুমরাহ, সাই সুদর্শন, হর্ষিত রানা, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং ওয়াশিংটন সুন্দর। বুমরাহর হাঁটুতে জল জমেছে। সুদর্শনের বাঁ পায়ের বুড়ো আঙুলে চোট। হর্ষিত ও নীতীশের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট এবং ওয়াশিংটনের কোয়াড্রিসেপ পেশিতে সমস্যা। অন্যদিকে বাংলার হয়ে রনজি ট্রফির সেমিফাইনালে খেলার পর থেকেই লোয়ার ব্যাকের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে মাঠের বাইরে আকাশ দীপ। এ ছাড়া সাদা বলের ক্রিকেটের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হার্দিক পাণ্ডিয়া, বরুণ চক্রবর্তী এবং প্রিন্স যাদবও সিওই-তে রয়েছেন চোটের কারণে। ফলে একসঙ্গে এত ক্রিকেটারের রিহ্যাব সামলাতে গিয়ে যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে সিওই-র স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ। ২০২৫ সালের গোড়ায় নীতিন পটেলের পদত্যাগের পর সেই বিভাগে এখনও কোনও স্থায়ী প্রধান নেই।
চোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিসিসিআইয়ের অন্দরেই যে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তার ইঙ্গিতও মিলেছে। শোনা যাচ্ছে, সিওই এবং বর্তমান নির্বাচক কমিটির মধ্যে সবক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের চোটের সময়সীমা ও মাঠে ফেরার বিষয়ে সমন্বয় ছিল না। বুমরাহ ও সুদর্শনকে ফিটনেস সাপেক্ষে দলে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিয়ে ঝুঁকি নেয়নি সিওই-র বিশেষজ্ঞ দল। বুমরাহর ক্ষেত্রে আঘাতের পরে হাঁটুতে জল জমার বিষয়টি সামনে আসে। সুদর্শন বেশ কিছু দিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ৭৫ মিনিট ব্যাটিং করলেও বুড়ো আঙুলের ব্যথা পুরোপুরি কমেনি। অন্য দিকে, নিজের বোলিংয়ের গতি ঘণ্টায় ৭-৮ কিলোমিটার বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নীতীশের হ্যামস্ট্রিং এবং কোয়াড্রিসেপ পেশিতে চাপ পড়ে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচক মহলেও প্রশ্ন উঠছে। ইংল্যান্ডে হর্ষিত রানা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে পৌঁছনোয় নির্বাচকদের একাংশ খুশি নন বলেও খবর। একই ভাবে, নির্বাচকদের প্রথমে জানানো হয়েছিল বুমরাহ এবং সুদর্শন দুই টেস্টের অন্তত একটিতে খেলতে পারবেন। পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। এক বিসিসিআই কর্তা জানিয়েছেন, সাইকিয়া ও লক্ষ্মণের বৈঠকে এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হবে। কোচ গৌতম গম্ভীর এবং নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর অনলাইনে বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এত ক্রিকেটার একসঙ্গে চোটে পড়ায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একটাই। রিহ্যাবের ভুলভ্রান্তি দূরে সরিয়ে দ্রুত, কিন্তু নিরাপদে, তাঁদের মাঠে ফেরানো।