হাওড়া, নিউজ ডেস্ক: পুজোর চাঁদা দিতে গিয়ে আর কোনও চাপ বা অশান্তির মুখে পড়তে হবে না সাধারণ মানুষকে। উৎসবের মরশুমে এমনই এক ব্যবস্থার কথা সামনে এসেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নজর পড়েছে হাওড়া গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের। পুজোর নামে বাড়তি চাপ সৃষ্টি কিংবা জোর করে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠলে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ থাকছে।
দুর্গাপুজো মানে এখন পাড়ায় পাড়ায় প্রস্তুতির ব্যস্ততা। কোথাও মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, কোথাও চলছে প্রতিমা ও আলোকসজ্জার পরিকল্পনা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পুজো কমিটির তরফে শুরু হয়েছে চাঁদা সংগ্রহ। তবে, চাঁদা সংগ্রহের নামে সাধারণ মানুষের ওপর কোনও চাপ সৃষ্টি বা জোরজুলুম যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। জানা গিয়েছে, হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় চাঁদার নামে জোর করে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা আদায়, হুমকি বা হয়রানির মত অভিযোগ উঠলে সরাসরি পুলিশে খবর দেওয়া যাবে। এর জন্য চালু হয়েছে একটি বিশেষ মোবাইল নম্বর। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার বাসিন্দারা প্রয়োজন অনুযায়ী এই নম্বরে ফোন করে তাঁদের অসুবিধার কথা জানাতে পারবেন। এই বিশেষ হেল্প লাইন নম্বরটি হল ৯১৪৭৮৮৮২৪৫।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সহযোগিতা করবে বলে জানা গিয়েছে। পুজোর মরশুমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তির বিষয়টি মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা সংগ্রহ ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও অতিরিক্ত চাঁদার দাবি, আবার কোথাও চাঁদা না দিলে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ধরনের ঘটনা যাতে উৎসবের আনন্দের পরিবেশ নষ্ট না করে, সেদিকেই নজর প্রশাসনের। একইসঙ্গে, এবার পুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি অনুদান সম্পর্কে একাধিক নিয়ম কানুনের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও সরকারি সহযোগিতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে, পুজো উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ও পরিষেবা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এই বিশেষ নম্বর চালুর ফলে চাঁদার নামে জোরজুলুমের অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষকে আর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য আর চাপের মুখে পড়তে হবে না। বরং সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকছে। পুজোর মরশুমে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা গিয়েছে।
