পূর্ব বর্ধমান, নিউজ ডেস্ক: বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপুজো। আর এই দূর্গাপুজো এলেই মনে পড়ে বনেদি বাড়ির পুজোর কথা। যেখানে সময় পেরিয়ে যায় কিন্তু বদলায় না ঐতিহ্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলতে থাকে প্রাচীন সমস্ত রীতিনীতি। তেমনি এক ঐতিহ্যের সাক্ষী পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কোঙার পরিবারের দুর্গাপুজো।
আনুমানিক প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন ইতিহাস। বাকি সব দূর্গাপুজোর মতো সাধারণ নিয়ম মেনেই পুজো হয় কোঙার বাড়িতে। পুজোর চার দিন ঢাকের বাদ্যি, ঝাড়বাতির আলো এবং ঠাকুরদালানের সাবেকিয়ানায় ফিরে পাওয়া যায় পুরনো জমিদারি আমেজ।
তবে এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হল প্রায় ৪০ লিটার জল ধারণকারী বিশাল আকারের ঘট। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উত্তরাধিকার সূত্রে বিশেষ নিয়ম আচার মেনে এই ঘটে পুজো চলে আসছে। কথিত রয়েছে, এই ঠাকুর বহু প্রাচীনকালে এক ব্রাহ্মণের ঠাকুর ছিল। তিনিই প্রথম এই পুজো সূচনা করেছিলেন। কিন্তু ব্রাহ্মণ নিঃসন্তান হওয়ায় এই ঠাকুর এবং ১৬ বিঘা সম্পত্তি কোঙার পরিবারকে দিয়ে যান। ফলে কোঙার পরিবারের জমিদারীতে শ্রী বৃদ্ধি ঘটে। তখন গ্রামের জমিদার ছিলেন কাঙালকৃষ্ণ কোঙার। সেই থেকেই এই পুজো করে আসছেন কোঙার পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ১০৮ জন সদস্য রয়েছেন তাদের পরিবারে। কর্মসূত্রে তারা বিভিন্ন প্রান্তে থাকেন। কিন্তু পুজোর গন্ধ আসলেই সকলেই ফিরে আসেন পৈত্রিক বাড়িতে। পুরনো ঠাকুরদালান সেজে ওঠে ঝাড়বাতির আলোয়। আত্মীয় পরিজনদের ভিড়ে এই দালানে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। পুজোর এই চারটে দিনে পরিবারের সকলে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন।
সময় বদলেছে, বদলেছে প্রজন্ম, কিন্তু কোঙার বাড়ির দুর্গাপুজোয় বদলায় নি বিসর্জনের রীতি। যুগ যুগ ধরে চলে আসা রীতি অনুযায়ী, বাগদী পাড়ার মানুষের হাতে দেবী প্রতিমা বিসর্জনের অধিকার রয়েছে। আজও একই রীতি মেনে তাদের ছাড়া হয়না প্রতিমা বিসর্জন। আজ সেই জমিদারি আর নেই। কিন্তু আজও পুজোর এই দিনগুলি এলেই ঠাকুরদালানে ধরা দেয় জমিদারি আভিজাত্য।