কলকাতা নিউজ ডেস্ক: বাঙালির আড্ডা আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা, এই জুটি যেন চিরকালীন। সকাল বেলার ঘুম কাটানো থেকে শুরু করে বিকেল বেলার জমজমাটি আড্ডা, বাঙালির সবেতেই চায়ের কাপ চাই। কিন্তু সেই চায়ের কাপে এখন আর আগের মত মজা নেই। চায়ে চুমুক দেওয়ার আগে যেন পকেটে পড়ছে ছেঁকা। চিনির দাম বাড়তে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চায়ের দামও। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫ টাকার চা পৌছে গেল ৭ টাকাতে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরবাড়ি বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধিকে ঘিরে চা প্রেমিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। ইতিমধ্যেই বাজারের ২০ টির ও বেশি চায়ের দোকানে চায়ের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। দোকানের সামনে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন রেট চার্ট। জানা গিয়েছে, গত ১৯ আগস্ট থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। চা ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু চিনির দাম নয়, চা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সামগ্রীর দামও বেড়ে গিয়েছে। ফলে, পুরনো দামে চা বিক্রি করে ব্যবসা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
চা বিক্রেতাদের বক্তব্য, আগে যেখানে প্রতি কেজি চিনি প্রায় ৪৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বেড়ে গিয়ে প্রায় ৭০ টাকা হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে রান্নার গ্যাস এবং কাগজের কাপের দামও। সব মিলিয়ে এক কাপ চা তৈরি করতে খরচ আগে তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চা ব্যবসায়ীর রণজিৎ সাহার কথায়, 'চায়ের দাম না বাড়ালে দোকান চালানো সম্ভব হচ্ছিল না'। তাঁর দাবি, ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট পদাধিকারী থাকা ইউনিয়ন নয় বরং স্থানীয় চা বিক্রেতারাই সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, নিয়মিত চায়ের আড্ডায় অভ্যস্তদেরও বিষয়টি মেনে নিতে হচ্ছে। চায়ের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চা প্রেমী বিশ্বনাথ মাইতি বলেছেন,'চিনি-সহ বাজারে আরও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। চিনির দাম তো এখন আকাশছোঁয়া। চিনি ছাড়া চা সম্ভব নয়। ওঁদেরও তো ব্যবসা করতে হবে। আমরা যারা নিয়মিত চায়ের দোকানে দু’বেলা বসি তারা এই মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিয়েছি।'
তবে, এই হিসেবটা চা প্রেমীদের জন্য বেশ কড়া। দিনে দুবার চা খেলেও মাসের শেষে বাড়তি খরচ দাঁড়াবে কয়েকশো টাকা। ফলে চা প্রেমীদের জন্য, চায়ের কাপে আড্ডা থাকলেও সেই আড্ডার খরচ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। চায়ের একই কাপে সেই আগের তুফান এখন অনেকটাই ম্লান, তা বলাই যায়।