হুগলি, নিউজ ডেস্ক : পুজোর আনন্দের প্রস্তুতি যখন শেষ মুহূর্তে, তখনই গ্রামের একের পর এক বাড়িতে জ্বরের খবর। কারও শরীরের জ্বর, কারও আবার শরীরে ডেঙ্গির উপসর্গ। পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে উদ্বেগ। আতঙ্ক যাতে আরও বেশি না ছড়ায় তার আগেই এবার তৎপর হয়েছে প্রশাসন। গ্রামে পৌঁছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে মশা নিধনে নেওয়া হচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ।
হুগলি জেলাতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ঘিরে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগের পরিস্থিতি। পুজোর ঠিক আগে ডেঙ্গি চিন্তা বাড়িয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের। হুগলিতে এই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫০০। এরই মধ্যে পোলবা ব্লকের মহানাদ গ্রাম পঞ্চায়েতে ডেঙ্গির প্রকোপে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। স্বাস্থ্য জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হিসেবে অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত মহানাদে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জ্বর ও ডেঙ্গি উপসর্গ নিয়ে আরও অনেকে রয়েছেন। ফলে, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা তাঁদের।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মহানাদ গ্রামে স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। জ্বর ও ডেঙ্গির উপসর্গ থাকা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি, ডেঙ্গি প্রতিরোধে কি কি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে, সেই বিষয়েও স্থানীয়দের সচেতন করা হয়। এছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে মশারি বিলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে, বুধবার ড্রোন উড়িয়ে কীটনাশক ছড়ানো থেকে এলাকা সার্ভে করা হয় ডেঙ্গির মশার লার্ভার খোঁজে। ড্রোনের সাহায্যে বিভিন্ন জায়গার নজরদারি করার পাশাপাশি কীটনাশক ছড়ানো হয়। এলাকায় জল, জঙ্গল পরিষ্কার করতেও বলা হয়। কোথাও জল জমা রয়েছে কি না, ঝোপঝাড় বা অপরিচ্ছন্ন জায়গায় মশার লার্ভা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। বাড়ির আশেপাশে জল না জমতে দেওয়া এবং জল-জঙ্গল পরিষ্কার রাখার জন্য বাসিন্দাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মহানাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের আরমালা ও নগরপাড়া এই দু’টি গ্রামেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি বলে জানা গিয়েছে। এই দুই এলাকাকে বিশেষ নজরে রেখেছে পোলবা ব্লক প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর। এই গ্রামগুলিতে ড্রোন উড়িয়ে কীটনাশক ছড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় প্রয়োজনীয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও করা হচ্ছে। এই পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন পোলবার বিডিও উব্রিতি দাস। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে, পুজোর আগে মহানাদে ডেঙ্গি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন এলাকাবাসীদের।
