Thermax Limited-এর শেয়ারে শুক্রবার বড়সড় পতন দেখা গেল। ৩১ জুলাই বাজার খোলার পর সংস্থাটির শেয়ার এক সময় ১৬ শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়। মূলত ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সংস্থার নিট মুনাফায় ব্যাপক পতনের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
শুক্রবার দিনের শুরুতেই থার্ম্যাক্সের শেয়ার সর্বোচ্চ ১৬.০৮ শতাংশ নেমে ৩,৫৬৬.৯০ টাকায় পৌঁছে যায়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ শেয়ারটির দর ছিল প্রায় ৩,৬৮০ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ১৩.৪৩ শতাংশ কম। একই সময়ে সেনসেক্সও সামান্য দুর্বল অবস্থায় লেনদেন করছিল।
সংস্থার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, জুন ত্রৈমাসিকে থার্ম্যাক্সের কনসোলিডেটেড নিট মুনাফা বছরে ৮৩.৪ শতাংশ কমে হয়েছে ২৫.২ কোটি টাকা। গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫২.৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সংস্থার মুনাফায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
তবে মুনাফা কমলেও সংস্থার আয় কিছুটা বেড়েছে। প্রথম ত্রৈমাসিকে থার্ম্যাক্সের রাজস্ব ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৩০৩ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রাজস্ব ছিল ২,১৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিক্রয় ও ব্যবসার পরিমাণ বাড়লেও তা মুনাফায় উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
সংস্থার অপারেটিং পারফরম্যান্সেও দুর্বলতা দেখা গেছে। প্রথম ত্রৈমাসিকে EBITDA বা সুদ, কর, অবচয় ও অ্যামর্টাইজেশনের আগে আয় ৬৯.৫ শতাংশ কমে ৬৮.৬ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। গত বছরের একই ত্রৈমাসিকে EBITDA ছিল ২২৫ কোটি টাকা।
EBITDA মার্জিনও উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। গত বছরের জুন ত্রৈমাসিকে যেখানে EBITDA মার্জিন ছিল ১০.৪ শতাংশ, এবার তা নেমে হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। ফলে সংস্থার আয় বাড়লেও পরিচালন ব্যয়ের চাপ এবং কম অপারেটিং মুনাফা সামগ্রিক ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
এই দুর্বল ফলাফল প্রকাশের পরেই থার্ম্যাক্সের শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ে। বাজার বিশেষজ্ঞদের নজর এখন থাকবে সংস্থার পরবর্তী ত্রৈমাসিক ফলাফল এবং অপারেটিং মার্জিনের উন্নতির দিকে। বিনিয়োগকারীরা আগামী দিনে সংস্থার ব্যবসায়িক অর্ডার, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মুনাফার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার দিকেও নজর রাখবেন।