সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে ছিল সর্বদলীয় বৈঠক। সেখানেই চড়ল রাজনীতির পারদ। এনসিপিআই-এর সাংসদদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে তীব্র আপত্তি জানাল বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দলের সাংসদ বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়দের পাশাপাশি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে এবং শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও প্রতিবাদে সামিল হন।
বিরোধীদের অভিযোগ, এনসিপিআই এখনও সংসদে পৃথক দল হিসেবে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। সেই পরিস্থিতিতে সর্বদল বৈঠকে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর কোনও সাংবিধানিক বা সংসদীয় ভিত্তি নেই। এই ইস্যুতেই বৈঠক শুরু হতেই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিরোধী সদস্যদের একাংশ সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, মাস খানেক আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেন। তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করেন। যদিও সেই আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তবুও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু শনিবার এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত তালিকায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদের নাম থাকলেও, দলত্যাগী ২০ জন সাংসদকে আলাদা আসনে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের জন্য এখনও পৃথক কক্ষ বরাদ্দ করা হয়নি, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
রবিবার সকাল ১১টায় সংসদের অ্যানেক্স ভবনে সর্বদল বৈঠক শুরু হওয়ার আগে কিরেণ রিজিজু এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়াল এনসিপিআই প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। এরপরই বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তাঁদের বক্তব্য, স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনও নতুন দলকে সর্বদল বৈঠকে অন্তর্ভুক্ত করা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, স্পিকার এখনও এনসিপিআই-কে পৃথক দল হিসেবে অনুমোদন দেননি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের সর্বদল বৈঠকে ডাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদেই তাঁরা ওয়াকআউট করেছেন এবং ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য শরিকদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।




