মুর্শিদাবাদ, রেশমি ব্যানার্জি: প্রথম দিন মা এবং তার ঠিক পরের দিন ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু। শোকে পাথর গোটা গ্রাম। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মায়ের। আর তার দেহ হাসপাতালে আনতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো ছেলে। মাঝে মাত্র সামান্য কয়েক ঘন্টার ব্যবধান।
বৃহস্পতিবার মায়ের মৃত্যু এবং শুক্রবার ছেলের মৃত্যু ঘিরে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। এমন এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের নিমতিতার শেরপুর গ্রামের এক পরিবার। মায়ের মৃতদেহ বাড়ি আনতে যাওয়ার পথে রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ছেলে। মৃতের নাম আহাসাল আলী (৩০)। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে জঙ্গিপুর থানার অন্তর্গত নিমতিতা স্টেশনে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬০ বছর বয়সি সালেমা বিবি। তাঁকে তড়িঘড়ি তিন ছেলে মিলে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন গভীর রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দুই ছেলে সারারাত হাসপাতালেই ছিলেন। ছোট ছেলে আহাসাল আলী রাতেই বাড়ি ফিরে যান।
পরেরদিন যোগার যন্ত্র করে মায়ের মৃতদেহ বাড়ি আনার জন্য প্রস্তুতি করে ছেলেরা। সেইমত শুক্রবার সকালে মায়ের মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে আসার জন্য আবারও বের হন আহাসাল। আর সেই সময় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। যার পরিণতি হয় মৃত্যু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তরফে জানা গিয়েছে, নিমতিতা স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার সময় পা পিছলে প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝে পড়ে যান তিনি। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জিআরপি ও রেল পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে।
এদিকে মায়ের মৃতদেহ তখনও পড়ে রয়েছে একই হাসপাতালের মর্গে। একই সঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুর খবরে কার্যত ভেঙে পড়েছে পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছে মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সব শেষ। মায়ের মৃতদেহ আনতে আসার কথা ছিল ছোট ছেলের। কিন্তু এমন ঘটনায় শোকে পাথর সকলে। ময়না তদন্তের পর শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে পৌঁছবে মা এবং ছেলের মরদেহ।